বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস

বিশ্বে জলাতঙ্কে মারা যায় বছরে ৫৫ হাজার মানুষ

জলাতঙ্কে মৃত্যু হার শতভাগ

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

জলাতঙ্ক একটি ভয়ঙ্কর মরণব্যাধি। এ রোগে মৃত্যুর হার শতভাগ। পৃথিবীতে প্রতি ১০ মিনিটে একজন এবং প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ জলাতঙ্ক রোগে মারা যায়। ‘জলাতঙ্ক নির্মূলে টিকাদান, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামী সোমবার বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উদ্যাপন করা হবে। ওই দিবসকে সামনে রেখে সরকার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় জাতীয় পর্যায়ে, বিভাগীয় পর্যায়ে, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে একযোগে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উদ্যাপন করা হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ে সেমিনার, মুক্ত আলোচনা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালিত হয়। বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস ২০২০ সফলভাবে উদ্যাপনের মাধ্যমে দেশকে জলাতঙ্ক মুক্তকরণে সবার সার্বিক সহযোগিতা একান্ত কাম্য। এ রোগের ভয়াবহতা উপলব্ধি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধ ও নির্মূলের লক্ষ্যে ২০০৭ সাল থেকে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উদ্যাপিত হয়ে আসছে। পৃথিবীর ১২টি দেশের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশও ২০০৭ সালে প্রথম বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উদ্যাপন করে। এরপর থেকে প্রতি বছর ২৮ সেপ্টেম্বর এ দিবস পালিত হয়ে আসছে এবং এরই অংশ হিসেবে ।

জলাতঙ্ক একটি ভয়ঙ্কর মরণব্যাধি। এ রোগে মৃত্যুর হার শতভাগ। পৃথিবীতে প্রতি ১০ মিনিটে একজন এবং প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ জলাতঙ্ক রোগে মারা যায়। জলাতঙ্ক রোগটি মূলত কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এছাড়াও বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমেও এ রোগ হতে পারে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪-৫ লাখ মানুষ কুকুর, বিড়াল, শিয়ালের কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়ে থাকে, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। এ ছাড়াও প্রায় ২৫ হাজার গবাদি প্রাণী এ রোগের শিকার হয়ে থাকে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা আজ প্রায় জলাতঙ্কমুক্ত, সব কুকুর বাধ্যতামূলকভাবে টিকাপ্রাপ্ত। দক্ষিণ আমেরিকায় ব্যাপকহারে কুকুর টিকাদানের মাধ্যমে জলাতঙ্ক প্রায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে। জলাতঙ্ক মূলত এখন আফ্রিকা এবং এশিয়া, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার সমস্যা। বিশ্বের প্রায় ৯০ ভাগ জলাতঙ্কে মৃত্যু এখন দুটি মহাদেশে। শুধুমাত্র ভারতেই প্রায় ১৫-২০ হাজার লোক প্রতি বছর জলাতঙ্ক রোগের স্বীকার। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানও একটা বড় অংশ বহন করে।

বাংলাদেশেও ২০১০ সালের আগে প্রতি বছর প্রায় ২০০০ মানুষ জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেত এবং গবাদি প্রাণীর মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান অজানা হলেও একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবাদি প্রাণী এ রোগে মারা যায়। ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জলাতঙ্ক মুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে সাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মূল কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সব জেলায় মোট ৬৭টি জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। ঢাকা জেলার মহাখালীতে অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কেন্দ্র ‘সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল’ এ প্রতিদিন প্রায় ৫০০-৬০০ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি সাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার উদ্যোগে ২০১১ সাল থেকে সারা দেশে ব্যাপকহারে কুকুর টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি জলাতঙ্ক রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম ও দিবস উদ্যাপনের মাধ্যমে অবহিতকরণ কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। এছাড়াও অপরিকল্পিতভাবে কুকুর নিধন রোধ করার লক্ষ্যে পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে সমঝোতার স্মারক সাক্ষর করা হয়েছে। এছাড়াও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন এনজিওর সম্মিলিত উদ্যোগে বাংলাদেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরের গৃহীত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার ফলে বাংলাদেশে জলাতঙ্কের সংখ্যা হ্রাস পেতে শুরু করেছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত সারা দেশে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২১৪৭ থেকে ১৪৪৫-এ নেমে এসেছে এবং সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় প্রায় ৬৮ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে চলমান এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি কুকুরের কামড়ের আধুনিক ব্যাবস্থাপনা চালু রেখে ব্যাপকহারে কুকুরের টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সব কুকুরকে ৩ রাউন্ড টিকাদান করা গেলে ইস্পিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।

 

 

"