ক্রীড়া ডেস্ক

  ২০ জুলাই, ২০২৬

গোল-বন্যা, হ্যাটট্রিক ও রেকর্ড

ঐতিহাসিক জয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই বলেন, ‘সান্ত্বনা’ পুরস্কার। কিন্তু এমন ম্যাচই চরম উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ ছড়াল। ১০ গোলের উত্তাপ, বুকায়ো সাকার রেকর্ড হ্যাটট্রিক এবং জোড়া গোলে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাওয়া। সব শেষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় ইংল্যান্ডের।

গত শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড এগিয়ে ছিল ৪ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে ২ দলের ব্যবধান ছিল ২-৪। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড বুকায়ো সাকা। ইংল্যান্ডের হয়ে বাকি তিনটি গোল ডেক্লান রাইস, কোনসা এবং জুড বেলিংহামের। ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেছেন এমবাপ্পে। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন ব্রাডলি বারকোলা এবং উসমান ডেম্বেলে। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললেও হার এড়াতে পারেনি ২০১৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপের তৃতীয় দল হলো ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর এটিই তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য।

এদিন তৃতীয় মিনিটেই ডেক্লান রাইসের গোলে লিড নেয় ইংল্যান্ড। মাঝমাঠে ওলিসের ভুল পাসে বল পান ইংলিশ মিডফিল্ডার। সেখান থেকে কয়েকজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সের সামনে থেকে দূরপাল্লার শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল কাঁপান রাইস। গোলকিপার মাইনানের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। ১১ মিনিটে বাম প্রান্ত ধরে ওপরে উঠে পোস্টের কোনা থেকে ব্যাকপাস দেন এমবাপ্পে। ডি-বক্সের সামনে থেকে নেওয়া দুয়ের নিচু শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন ডিন হেন্ডারসন। প্রতি আক্রমণে উঠেই ফ্রান্সের জালে একক প্রচেষ্টায় বল জড়ান বুকায়ো সাকা। তবে অফসাইডের কারণে মেলেনি গোল। তাতে আক্রমণের ধার তাতে কমেনি ইংলিশদের। ইংল্যান্ড গোলের জন্য হানা দিতে থাকে ফরাসি রক্ষণে। ম্যাচের ১৮ মিনিটে ফের সফলও হয় তারা। রাইসের কর্নার কিক থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে দারুণ গোলে ইংল্যান্ডের লিড দ্বিগুণ করেন কোনসা। এ গোল হজমের মধ্য দিয়ে নিজেদের একটি তিক্ত রেকর্ড ভাঙল ফ্রান্স।

বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এ নিয়ে সবচেয়ে কম সময়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। এর আগে সবচেয়ে কম সময়ে এমনটা হয়েছিল ৩৬ মিনিটে; ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। ৩৩ মিনিটে রাশফোর্ডের দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন ফ্রান্স গোলকিপার। খানিক পর হেন্ডারসন দারুণ সেভে গোলবঞ্চিত রাখেন এমবাপ্পেকে। প্রতি আক্রমণে উঠে প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হন রাশফোর্ড। সময় নিয়ে গোলের সামনে ৬ গজের মধ্যে পাস বাড়ান সাকাকে। ততক্ষণে গোলকিপার বেরিয়ে আসায় ফাঁকা গোলে সহজেই স্কোরলাইন ৩-০ করেন সাকা। ম্যাচে বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরও বেশকিছু সুযোগ তৈরি করে ইংল্যান্ড। এরপর এ অর্ধের যোগ করা সময়ে প্রথম মিনিটে আবারও জাল কাঁপান সাকা। তার জোড়া গোলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড।

১৯৫৮ সালের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ৫-২ গোলে হারের পর, লা ব্লুস এ নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে ৪ গোল হজম করল। বিরতির পর একসঙ্গে চার পরিবর্তন করেন দিদিয়ের দেশ্যম। সেটি কাজে দেয় ফরাসিদের জন্য। বদলি খেলোয়াড় উপামেকানোর কাছ থেকে বল পেয়েই এমবাপ্পেকে ক্রস দেন ওলিসে। গোলমুখের সামনে প্লেসিং শটে এক গোল পরিশোধ করেন ফ্রান্স ফরোয়ার্ড। ৫৪ মিনিটে এবার ব্রাডলি বারকোলা ব্যবধান আরো নামিয়ে আনেন। এমবাপ্পের অ্যাসিস্টে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে ব্যবধান ৪-২ করেন তিনি। বিরতির পর ৯ মিনিটের মধ্যে ২ গোল পরিশোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় ফ্রান্স। খানিক পর ডেম্বেলের শট রুখে দেন হেন্ডারসন। ইংল্যান্ডকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ দেননি ফ্রান্স গোলকিপার মাইনান। ৬০ মিনিটে কর্নারের পর ডি-বক্সে হেড নেন ইভান টনি। কিন্তু কাছের পোস্ট লাফিয়ে গোল আটকান মাইনান। পরের মিনিটে ওলিসের নিচু শট বেরিয়ে যায় পোস্টঘেঁষে। ৬৭ মিনিটে বিশ্বকাপে নিজের ঐতিহাসিক গোলটিই করলেন এমবাপ্পে। যে গোলে ব্যবধান ৪-৩ এ নেমে এলেও তার থেকে বেশি গুরুত্ব বহন করে ফরাসি ফরোয়ার্ডের জন্য। এ নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে তার মোট গোল হলো ১০টি, যা মেসির ৮ গোলের চেয়ে দুটি বেশি। ১৯৭০ সালে গার্ড মুলারের ১০ গোলের পর এমবাপ্পে প্রথম খেলোয়াড়, যিনি এক বিশ্বকাপে ১০ গোল করেছেন। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন তিনি। ২২ গোল করে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন লিওনেল মেসির ২১ গোলকে।

গোলটি ছিল ওলিসের ফ্লিক থেকে। বল পেয়ে এমবাপ্পে বাঁ পায়ে হেন্ডারসনকে পরাস্ত করেন। এ নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে মোট ৭টি অ্যাসিস্ট করলেন ওলিসে। ১৯৭০ বিশ্বকাপের যা সর্বোচ্চ। ফ্রান্সের একের পর এক আক্রমণের সামনে যখন ইংল্যান্ডের ৪ গোলের লিড হুমকির মুখে, বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরও যখন হারের চোখ রাঙানি, তখনই পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। সফল স্পটকিকে দলের লিড আরো বাড়িয়ে নেন বুকায়ো সাকা। ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাকা ম্যাচে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর সাকা হলেন ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় খেলোয়াড় যিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন। এরপর যোগ করা সময়ের ৬ এবং ৮ মিনিটের মাথায় দুদলের হয়ে একবার করে জাল কাঁপান উসমান ডেম্বেলে ও বেলিংহাম। তাতে ম্যাচের ফলে কোনো প্রভাব পড়েনি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়