দুষ্টু চড়ুই ও ঘাসফড়িং

দিপংকর দাশ

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সূর্যের আলো এসে পড়েছে শিশিরভেজা ঘাসের ওপর। ভেজা ঘাস ঝিলিমিলি করছে। আকাশে সাদা মেঘ উড়ে যাচ্ছে এপাড়া থেকে ওপাড়ায়। হালকা বাতাসে ধানের চারাগুলো কোমর দুলিয়ে নাচছে। এক ঘাসফড়িং মনের আনন্দে তার ছোট ছোট পাখা মেলছে আকাশছোঁয়ার বাসনায়। ধানচারার ওপর দিয়ে বাতাসে গা ভাসিয়ে ঘাসফড়িং-ছানা ছুটে চলেছে। বাগান থেকে ফুলের সুগন্ধ এসে মন ভরিয়ে দেয় তার। এ সুগন্ধি স্থলের উদ্দেশ্যে রাস্তা ধরে সে। উড়তে উড়তে পৌঁছে যায় এক বাগানে। বাগানে পৌঁছে সে মুগ্ধ হয়। বাহারি রঙের ফুল আর ভিন্ন রকম সুগন্ধ তার মনকে আন্দোলিত করে।

বাগানে হঠাৎ করে দেখা হলো এক মৌমাছির সঙ্গে। ঘাসফড়িংকে দেখে মৌমাছি এগিয়ে এসে বলে, ‘কে ভাই তুমি? এ বাগানে আগে তো কখনো দেখিনি! হ্যাঁ, শুনে রাখো, এ বাগানে মধু সংগ্রহের অধিকার কেবল আমারই আছে। তাই ভালোয় ভালোয় বলছি, এ বাগান থেকে চলে যাও।’

ঘাসফড়িং হেসে বলে, ‘মৌমাছি ভায়া, আমি তোমার বাগানে মধু সংগ্রহ করতে আসিনি। তোমার অধিকারে ভাগ বসাতে আসিনি। আমি এই বাগানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছি। এই সৌন্দর্য উপভোগ করার অধিকার তো সবারই থাকে। তাই না? অবশ্যই আমি চলে যাব। আমার কারণে যদি তুমি বিরক্তিবোধ করো, তাহলে কেন থাকব এখানে? এক্ষুনি চলে যাচ্ছি।

এই বলে ঘাসফড়িং উড়তে শুরু করে।

বাগান পেরিয়ে মাঠ, মাঠ পেরিয়ে নদী এবং নদী পেরিয়ে এক গ্রামে এসে পৌঁছে সে। দীর্ঘ সময় ওড়ার কারণে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সে এক বিরাট অট্টালিকার পাশের এক বাগানে ঘাসের ওপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছে। ছাদের কোটর থেকে এক চড়–ই বাগানে আসা ঘাসফড়িংকে দেখতে পায়। সে মনে মনে ফন্দি আঁটতে থাকে। সে উড়ে যায় তার কাছে। হাসিমাখা মুখে সে ঘাসফড়িংকে বলে, ‘ওহে ভায়া, তুমি এখানে কী করছো?

আসলে ভাই, আমি অনেক দূর থেকে এসেছি। বড্ড ক্লান্ত। তাই একটু বিশ্রাম নিচ্ছি।

বিশ্রাম নেবে ভালো কথা। তবে এই চড়–ইয়ের বিশাল অট্টালিকা থাকতে তুমি এখানে কেন শুয়ে থাকবে। আমার ভবনে আসো, আতিথেয়তা স্বীকার করো।

না ভায়া, আমার এখানেই বড্ড আরাম লাগছে।

এমনটা তো হবে না ভায়া। আমার রাজ্যে এসে আমার মেহমান হবে না, এমন কখনো হয়নি। চলো চলো। আর তুমি তো আমার বন্ধু। বন্ধু ভেবে চলো।

ঘাসফড়িং চড়ুইয়ের প্রেমে মুগ্ধ হয়ে আর না করতে পারে না। অবশেষে সে চড়–ইয়ের বাসায় যায়। চড়ুই ভবনের যে কোটরে থাকে সেখানে যাওয়া মাত্রই ঘাসফড়িংয়ের দম যেন বন্ধ হয়ে আসছে। তবু বন্ধু বলে কথা। চড়ুই তার অনেক প্রশংসা করতে থাকে। ফড়িং সে প্রশংসায় মুগ্ধ হয়ে যায়। একসময় সে ঘুমিয়ে পড়ে। চড়ুই মনে মনে সেই সময়টার অপেক্ষাই করছিল। সে ঘুমন্ত ঘাসফড়িংয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং খেয়ে ফেলে। বেচারা ঘাসফড়িং অতি প্রশংসায় অন্ধ হয়ে নিজের জীবন হারাল। দুষ্টু চড়ুই এভাবে তার নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে ফেলল।

 

 

"