আল আমীন বিন সাবের আলী

  ১৩ মার্চ, ২০২৬

বিশেষ তোহফা লাইলাতুল কদর

১। এ পুণ্যময় রজনীতে অবহেলা না করে গুরুত্ব ও ইখলাসের সাথে ইবাদত বন্দেগিতে লেগে থাকা চাই। কিছু অংশ কুরআনে কারিমের তিলাওয়াতে নিমগ্ন থাকা, কিছু অংশে নফল নামায, বিশেষ করে সলাতুত তাসবীহ আদায় করা এবং কিছু অংশে যিকির আযকার ও দোয়া-মুনাজাত করা উচিত। (সুরা আনকাবূত: ৪৫)

(সেজন্য সবচেয়ে উত্তম হলো, রমজানের শেষের দশকে ইতিকাফে বসা। অসম্ভব হলে অন্তত শেষ দশকের শুধু রাতগুলোতে মসজিদে নফল ইতিকাফ করা। এটাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে শেষ দশকের ইশা ও ফজরের নামায গুরুত্ব সহকারে জামাতের সাথে আদায় করা।)

২। এ রাত্রিতে বেশি বেশি নি¤েœাক্ত দোয়াটি পড়তে থাকা- “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি” । (ইবনে মাজাহ: ৩৮৫০) কেননা বর্ণিত আছে যে, আয়েশা রা. বলেন, ‘আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, যদি আমি লাইলাতুল কদর জানতে পারি, তাহলে সে রাতে কী বলব? তিনি বলেন, তুমি বলো, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি” (অর্থ) “ হে আল্লাহ, আপনি সম্মানিত ক্ষমাকারী। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।” (তিরমিজি: ৩৫১৩)

৩। নিজের জীবনের পাপরাশির কথা স্মরণ করে আল্লাহ তাআলার নিকট কাকুতি-মিনতি ও রোনাজারীর সাথে তওবা করা ও ক্ষমা চাওয়া। (সুরা নূহ: ১০) কেননা, কোনো ব্যক্তি যদি রমজানে তার গুনাহ ক্ষমা করাতে ব্যর্থ হয়, তবে তার প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর হুঁশিয়ারি আছে। তিনি বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির নাক ধুলাধূসরিত হোক, যে রমজান পেল এবং তার গুনাহ মাফ করার আগেই তা বিদায় নিল।’ (তিরমিজি: ৩৫৪৫)

লাইলাতুল কদরে বর্জনীয় : ১। মসজিদে নিঃপ্রয়োজনে মোমবাতি জ্বালানো ও আলোক-সজ্জা করা। (সুরায়ে আ‘রাফ : আয়াত ৩১)

২. জামাতের সাথে সলাতুল তাসবীহ, তাহাজ্জুদ কিংবা অন্য কোনো নফল নামায পড়া। কারণ, নফল নামায জামাতের সাথে নাজায়েয। (রদ্দুল মুহতার: ১/৫৫২)

৩। ঘোষণা করে মসজিদে সম্মিলিত দোয়ার আয়োজন করা। হ্যাঁ, ঘোষণা বা ডাকাডাকি ছাড়া এমনিতে যারা উপস্থিত ছিল তারা দোয়া করে নিলে তা জায়েয।

৪। এই রাতে মসজিদে প্রচলিত মীলাদ-কিয়াম করা। কারণ ইহা সুস্পষ্ট বিদ‘আত। (মুসনাদে আহমাদ: ১৭১৪৯)

৫। এতো অধিক রাত্র পর্যন্ত জাগ্রত থাকা, যাতে ঘুমের তাড়নায় ফজরের জামাত ছুটে যায় কিংবা কাযা-ই হয়ে যায় বা এমন হয়ে যায় যে, নামাযে কি সুরা কালাম পড়ছে তা নিজেরও খবর নেই। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক: ১৫৫)

লাইলাতুল কদরের শিক্ষা : পবিত্র কুরআনের ছোঁয়াতে লাইলাতুল কদরের মূল্য হয়েছে। সেই কুরআন যদি আমাদের কলবে থাকে, আমাদের বিবি-বাচ্চার কলবে থাকে তাহলে আল্লাহ পাক খুশি হবেন। আল্লাহ পাক দোযখ থেকে অবশ্যই হেফাযত করবেন। এবং কুরআনের বরকতে আমাদেরকেও দামি বানিয়ে দিবেন দুনিয়া ও আখেরাতে, ইনশাআল্লাহ। তাই এই কুরআন শেখা ও এর হক আদায় করে চলার জন্য চেষ্টা করতে হবে আজীবন। আল্লাহ তাওফিক দিন, আমিন।

লেখক: পরিদর্শক

বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়