আবদুল্লাহ বিন আলমগীর ও মিয়া আবদুল হান্নান

  ১০ অক্টোবর, ২০২৫

কোরআন অবমাননার শাস্তি

কোরআন অবমাননাকারীকে যে কঠিন শাস্তি দেবেন আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জৎ মানব জাতির হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ করেছেন। মক্কার হেরা গুহায় কোরআনের প্রথম আয়াত ‘ইকরা’ অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে সবার জন্য কোরআনের বিধান মানা অপরিহার্য। এর বাইরে অন্য কিছু অবলম্বন বা ভাবার কোনও সুযোগ নেই। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘এটা সে কিতাব; যাতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হেদায়েত। (সুরা বাকারা, আয়াত, ২)

কোরআন পূর্ববর্তী সব আসমানী কিতাব সত্যায়ন করে এ বার্তা দিয়েছে যে, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ?ওহী নাজিল হওয়ার পর থেকে ইসলামই আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ইসলামই হচ্ছে একমাত্র মনোনীত দ্বীন (আনুগত্যের বিধান বা জীবন ব্যবস্থা)। (সুরা আল ইমরান, আয়াত ১৯)

কোরআনে অবতীর্ণ বিধানগুলো কোনও বাক্য বিনিময় ছাড়া যারাই মেনে নেবে দুনিয়া আখেরাতে আল্লাহ তাদের বিশেষ সম্মান দেবেন। এ বিষয়ে হজরত ওমর (রা.) বলেন, ‘তোমাদের নবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা এই কিতাব দ্বারা অনেক জাতিকে মর্যাদায় উন্নীত করেন আর অন্যদের অবনত করেন। অর্থাৎ যারা এই কিতাবের অনুসারী হবে, তারা দুনিয়ায় মর্যাদাবান এবং আখিরাতে জান্নাত লাভ করবে। (মুসলিম, হাদিস : ১৭৮২)

কোরআনকে সম্মানকারীদের আল্লাহর পরিজন বলে সম্বোধন করা হয়েছে হাদিসে। ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কতক লোক আল্লাহর পরিজন। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! তারা কারা? তিনি বলেন, কোরআন তিলাওয়াতকারীগণ আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ বান্দা।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১৫)

এর বিপরীতে যারা কোরআনের অবমাননা করবে আল্লাহ তায়ালা তাদের কঠিন শাস্তি দেবেন। হাদিসে বলা হয়েছে, ... আর যারা একে (কোরআন) অস্বীকার করবে, তারা দুনিয়ায় লাঞ্ছিত এবং পরকালে জাহান্নামে পতিত হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৭৮২) কককএকবার সাহাবি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) তাঁর ছাত্রদের বলেন, ‘জেনে রাখো, কোরআন (অনুসারীর পক্ষে ও অবমাননাকারীদের বিপক্ষে) এমন সুপারিশকারী, যার সুপারিশ কবুল করা হবে। অতএব, যে কোরআনের অনুসরণ করবে, সে জান্নাতে যাবে। আর যে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (ফাজায়েলে কোরআন, ইবনে কাসির : ১৫১ ) কোরআন অবমাননাকারীদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে চরম দুর্ভোগ ও ভয়াবহ শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। বর্ণিত হয়েছে, ‘দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী মহাপাপীর, যে আল্লাহর আয়াতের আবৃত্তি শোনে অথচ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে (নিজ মতবাদে) অটল থাকে। যেন সে তা শোনেইনি। সুতরাং ওকে মর্মন্তুদ শাস্তির সুসংবাদ দাও।’ (সুরা : জাসিয়া, আয়াত : ৭-৮)

কোনও মুসলিমের জন্য কোরআন অবমাননার মতো জঘন্য অপরাধের কোনও সুযোগ নেই। কেউ কোরআনের প্রতি প্রচণ্ড বিদ্বেষ নিয়ে অন্য বা কোনোভাবে কোরআন অবমাননা কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলে সে ইসলামের গণ্ডির বাইরে চলে যাবে এবং তাকে ইসলামী শরিয়তের ভাষায় মুরতাদ বলা হবে। এ বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের মাঝে কোনও দ্বিমত নাই। ইসলামী আইন অনুযায়ী মুরতাদের শাস্তি হল মৃত্যুদন্ড।

মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে দুনিয়ার মানুষ আলোর পথ, সত্য ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করে-

“এ সেই কিতাব,যাতে কোন সন্দেহ নেই। এটি পথপ্রদর্শক পরহেযগারদের জন্য।” (সূরা বাকারা: ২)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন-“রমজান মাস হলো সেই মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে। এটি মানবজাতির জন্য হেদায়েত, স্পষ্ট দিকনির্দেশনা এবং সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী।” (সূরা বাকারা: ১৮৫)

আরেক স্থানে আল্লাহ ঘোষণা করেন-“নিশ্চয় আমিই এ কোরআন নাজিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।” (সূরা হিজর: ৯)

কোরআনের মর্যাদা ও গুরুত্ব : সাহাবি হযরত আবু জর গিফারি (রাঃ) বর্ণনা করেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট নসিহত প্রার্থনা করি। তিনি বলেন, “তুমি তাকওয়া অবলম্বন করো। কারণ তাকওয়া সকল নেক আমলের মূল।” আমি আবার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, “কোরআন তেলাওয়াতের অভ্যাস করো। কারণ এটি দুনিয়াতে তোমার জন্য নূর এবং আখেরাতের জন্য অমূল্য ধনভাণ্ডার।” (ইবনে হিব্বান)

অতএব তাকওয়া ও কোরআনের সঙ্গে সম্পর্কই মুমিনের জীবনের মূল ভিত্তি। যে অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত থাকে, সে গুনাহ থেকে বিরত থাকে এবং সর্বদা সৎপথে অটল থাকে।

কোরআন অবমাননার ভয়াবহতা : কোনো মুসলমানের পক্ষে কোরআন অবমাননা করার কথা চিন্তাও করা যায় না। কিন্তু যদি কেউ কোরআনের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, অবমাননা করে কিংবা উপহাস করে-তাহলে সে ইসলামের দৃষ্টিতে মুরতাদ বলে গণ্য হবে। ইসলামী শরীয়তের বহুপ্রাচীন ফিকহী বিধান অনুযায়ী, এমন অপরাধের জন্য কঠিন শাস্তি নির্ধারিত হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন-“যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করে, তাদের শাস্তি হলো-হত্যা, শূলীতে চড়ানো, হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা অথবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা। এ হলো তাদের জন্য দুনিয়ার লাঞ্ছনা, আর আখেরাতে রয়েছে কঠিন শাস্তি।” (সূরা মায়িদাহ: ৩৩)

মুরতাদের পরিণতি : মুরতাদের পরকালের শাস্তি সম্পর্কেও আল্লাহ স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন- “তোমাদের মধ্যে যারা নিজেদের দ্বীন থেকে ফিরে দাঁড়াবে এবং কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারা জাহান্নামবাসী হবে- সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।” (সূরা বাকারা: ২১৭)

পবিত্র কোরআন হলো আল্লাহর কালাম, বিশ্ব মানবতার হিদায়াতের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। এটি তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা অবমাননা করার অর্থ হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে অবস্থান

গ্রহণ করা। এমন ঘৃণ্য কর্মের শাস্তি দুনিয়া

ও আখেরাত উভয় জায়গাতেই ভয়াবহ।

এজন্য প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য হলো কোরআনকে ভালোবাসা, সম্মান করা, তেলাওয়াত করা এবং এর শিক্ষা অনুসারে

জীবন গঠন করা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়