প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ৪ ঘণ্টা আগে

তিন সীমান্তে ৩৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থান

দেশের পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও নওগাঁ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ এবং শিশুসহ অন্তত ৩৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের (জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানো) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে পুশইনের জন্য আনা ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নওগাঁ : নওগাঁ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ এবং শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএএফ)। বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি তারা। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। এর আগে গতকাল ভারতের সঙ্গে সীমান্তের ১১ পয়েন্ট দিয়ে ১২৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবি জানায়, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক তারা। সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থি যেকোনো পুশইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্তে নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে তারা।

বিজিবি সূত্র আরো জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যেসব জেলার সীমান্তের ১১টি পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে, সেগুলো হলো- চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, খুলনা ও ঝিনাইদহ। নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছে। সংবাদ পাওয়ার পর হাঁপানিয়া বিওপির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের ভারতীয় শূন্য লাইনের অভ্যন্তরে অবস্থানরত অবস্থায় শনাক্ত করে। ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ৬ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পেয়ে এলাকায় টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে পাঠানোর (পুশইন) কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পঞ্চগড় : পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে ১০ নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন। গতকাল ভোররাতে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বড়বাড়ী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৭৫৮/৫-এর নিকটবর্তী ভারতের প্রধানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিএসএফের ৯৩ টিয়াপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। বিজিবি জানায়, ভোররাতে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের গেট খুলে দিয়ে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশের দিকে পাঠানো হয়। এ সময় বিজিবির একটি টহলদল তাদের বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের নিয়ে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে সরে যায়। বর্তমানে তারা শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তের উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফের টহলদল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলছে বলে জানা গেছে। এদিকে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করেছে বিজিবি। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে উঠান বৈঠক ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিজিবির বাধার কারণে পুশইনের চেষ্টা করা ১০ ব্যক্তি ভারতের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে আমাদের টহল কার্যক্রম জোরদার রয়েছে।

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আউলিয়ারহাট কামাতটারী সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্কতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধীন ৬১ বিজিবির পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পুশইনের জন্য আনা ব্যক্তিরা জিরো লাইন থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। বিজিবি ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সীমান্তের ৮৪৬ নম্বর প্রধান পিলারের উপপিলার ১ ও ২-এর মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চালায়। তবে সীমান্তে বিজিবির টহল দল সতর্কাবস্থানে থাকায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি। পঁয়ষট্টিবাড়ী বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, ভোররাতে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তা প্রতিহত করেছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা ভারতের ভেতরে অবস্থান করছে এবং সীমান্তে বিজিবি সতর্ক রয়েছে। রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম বলেন, কামাতটারী সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হলেও বিজিবির বাধায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়