গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

  ৪ ঘণ্টা আগে

পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার

* যাত্রী আগে নামিয়ে দেওয়ায় রক্ষা পেল ৩৭ জীবন * ব্রেক ফেলই দুর্ঘটনার কারণ * চালক-হেলপার জীবিত উদ্ধার * আড়াই ঘণ্টা পর বাস উদ্ধার * তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে টেনে ঘাটে থাকা কে-টাইপ ফেরি করবীর ওপর তোলে।

এর আগে গতকাল সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে র‌্যাম ভেঙে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দ্রুত বাসের চালক ও তার সহকারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই বাসে যাত্রীরা ছিলেন না। ফেরিতে ওঠার আগেই তারা নেমে গিয়েছিলেন। ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বাসে থাকা মালামাল উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে যাত্রীদের ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন বাসের চালক ঝন্টু আলী (৪৮) বলেন, ‘শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টায় কুষ্টিয়ার মদনপুর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। বাসে ৩৭ জন যাত্রী, চালক, সহকারীসহ প্রায় ৪০ জন ছিলেন। দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটের রো রো (বড়) ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ভেড়ানো ছিল। অন্যদিকে কে-টাইপ ফেরি করবী ছিল। নিয়ম অনুযায়ী ঘাটে যাত্রীদের নামতে আহ্বান করা হয়। অনেকে নামতে না চাইলে নৌপুলিশ তাদের নামিয়ে দেয়। এ সময় আমি ও আমার সহকারী ফেরিতে ওঠার জন্য গাড়ি চালু করি। তখন গাড়ির ব্রেক ফেল করে (নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে) সরাসরি করবী ফেরির র‌্যামে আঘাত করে। র‌্যাম ভেঙে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। পরে বাসের জানালা দিয়ে কোনোভাবে বের হয়ে আসি। স্থানীয় লোকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।’

বাসটির যাত্রী বিজিবির সদর দপ্তরের নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শিক্ষক আবদুস সালাম বলেন, ‘মাঝেমধ্যে এ পরিবহনে ঢাকা আসা-যাওয়া করি, কিন্তু কখনো বাস থেকে ঘাটে নামিনি। বাসটি ঘাটে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের নামার আহ্বান জানায়। আমি নামতে রাজি হচ্ছিলাম না। পরে নৌপুলিশ আমাদের জোর করে নামিয়ে দেয়। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বাসটি ফেরির র‌্যাম ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এখন মনে হচ্ছে, আল্লাহ আমাদের বাঁচাতে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। নয়তো গত ঈদের মতো এতগুলো মানুষের প্রাণ চলে যেত। এর আগে গত ২৫ মার্চ কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ওই ঘটনায় ২৬ জন যাত্রী প্রাণ হারান। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, সকাল সাড়ে ৯টায় একটি এসবি পরিবহন যাত্রীবাহী বাসটির ব্রেক ফেল করে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। পরে তাৎক্ষণিক বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধার জাহাজ হামজা-২ এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। বাসটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় সাড়ে ১২টায়। রাজবাড়ী জেলা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাড়ে ৯টায় এসবি পরিবহন কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা গামী দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে পৌঁছালে আমরা গাড়িটি থামিয়ে বাসটি ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে নামিয়ে দিই। পরে বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ পর্যন্ত হতাহতের মধ্যে বাসটির ড্রাইভার গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয় এবং বাস যাত্রীদের হতাহতের ঘটনা পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সেলিন মোল্লা বলেন, ফেরিঘাটে অনেক সময় দেখা যায়। বাসযাত্রীদের গাড়ি থেকে নামতে বললেও তারা নামতে চান। এটা জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ অনেক যাত্রী বুঝতে চায় না। কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান স্থানীয়রা ও সরকারের কাছে চাওয়া সবসময় যেন ঘাট ভালোভাবে তদারিক করা। জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ‘সবাইকে সচেতন হতে হবে। আজকের সচেতনতার কারণেই এতগুলো প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। আমরা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৫ থেকে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দিচ্ছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বাসে থাকা মালামাল উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়