মাহবুবুল আলম

  ১২ অক্টোবর, ২০২১

মুক্তমত

অশুভ চক্রের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে

দীর্ঘদিন ধরে বিদেশের মাটিতে বসে ফেসবুক, ইউটিউব ও অন্যান্য সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুসংখ্যক সাইবার সন্ত্রাসীরা দেশের ভাবমূর্তি নস্যাতের হীন প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পুত্র-কন্যা এবং পরিবার নিয়ে বিভ্রান্তিকর মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আর তাদের পেছনে অঢেল টাকা ঢালছে বিএনপি-জামায়াত ও ৭১-এর পরাজিত দেশবিরোধী অপশক্তি।

ইউটিউব-ফেসবুকের জন্য ভিডিও তৈরি করা চক্রের সদস্যরা দেশ-বিদেশে সিন্ডিকেট গড়ে সরকারবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত। এতে লাইক-শেয়ার ব্যবসার পাশাপাশি সরকারবিরোধী চক্রের কাছ থেকেও নিচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ। এসব বন্ধে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা রাখার কথা। কিন্তু তারা কেউই এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে দিনে দিনে এই দেশবিরোধ চক্র আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে।

এসব সাইবার সন্ত্রাসীরা হলো- সুইডেন প্রবাসী ও নেত্র নিউজের এডিটর ইন চিফ তাসনিম খলিল, কানাডা প্রবাসী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর দেলোয়ার হোসেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ও কোর্ট মার্শালে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে অবসরে যাওয়া সেনা কর্মকর্তা কর্নেল শহীদ উদ্দিন খান, কানাডা প্রবাসী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন শহীদ ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস ও বিসিএস ১৯৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে আত্মগোপনে থাকা মোহাম্মদ শামসুল আলম, শিবির ক্যাডার ও কানাডা প্রবাসী নাজমুস সাকিব, কানাডা প্রবাসী কথিত ব্যারিস্টার এম রহমান মাসুম, কানাডা প্রবাসী কথিত সাংবাদিক ও ইউটিউব ফেসবুকভিত্তিক ভূঁইফোড় চ্যানেল নাগরিক টিভির সিইও টিটো রহমান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ মামলার আসামি হয়ে বিদেশে আত্মগোপন করা সাংবাদিক কনক সারোয়ার, রাজাকারের সন্তান দাবিদার ও চাঁদাবাজির মামলায় আসামি হয়ে বিদেশে আত্মগোপন করা সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন, ধর্ষণ মামলার আসামি যুক্তরাজ্যে আত্মগোপন করা প্রতারক সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর এবং কথিত সাংবাদিক হাসিনা আক্তার। এরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউব বা ফেসবুক ব্যবহার করে বিদেশে বসে নানা ধরনের অপপ্রচার ও গুজব চালিয়ে যাচ্ছে।

এদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় বিটিআরসির কর্মকা-ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। সম্প্রতি এক রিট আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘বিটিআরসি কী করে? একই বিষয়ে কি বিটিআরসিকে প্রতিনিয়ত নির্দেশনা দিতে হবে? মনে হচ্ছে বিটিআরসি এ ধরনের ভিডিও ও ছবি দেখে আনন্দ পায়। তাদের ভালো লাগে, তারা এগুলো উপভোগ করে। আমরা সন্তান-সন্তুতি, পরিবার নিয়ে থাকি না? তারা চাইলেই ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের সন্তান ও বংশধর, বরখাস্ত কিছু সেনা কর্মকর্তা, পলাতক বিএনপি নেতা, কিছু পলাতক সাংবাদিক লন্ডন, আমেরিকা, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বসে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা, দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচারমূলক ভিডিও প্রচার করছে। এ ভিডিওই নাকি তাদের আয়ের অন্যতম উৎস। এর থেকে অর্থ আয়ের পাশাপাশি তারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কাছ থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ নিচ্ছে। তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে আয় করছে অথচ আমরা তাদের কিছুই করতে পারছি না। শুধু তা-ই নয়, অপপ্রচারমূলক কন্টেন্টগুলো আমরা সরাতেও পারছি না। আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সরকারি আমলারা যেন হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন। তাদের এ আচরণ নৈরাশ্যজনক।’

ইদানীং ওই দেশবিরোধীরা যার যা মতো ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ খুলে নানা ধরনের ভিডিও প্রচার করছেন। এসবের অধিকাংশই অপপ্রচারমূলক। সমাজে ও রাষ্ট্রে এর একটা বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এসব ভিডিও-অডিও প্রচার বন্ধ না করা গেলে সামাজিক অবক্ষয় আগের তুলনায় আরো বাড়তে পারে এবং দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এসব সাইবার সন্ত্রাসী রাষ্ট্র, সরকারপ্রধান তার পরিবার ও দেশের বিশিষ্টজনদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা তথ্য, ভুয়া ছবি দিয়ে অডিও-ভিডিও তৈরি করে ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিতে না পারলে অচিরেই দেশের সহজ-সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেশের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে অজনপ্রিয় করে ফেলতে পারে তাই আমাদের উচিত আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা।

ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটারসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। বাংলাদেশেও ফেসবুকের প্রায় চার কোটি ইউজার রয়েছে। এই সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে ওইসব সাইবার সন্ত্রাসী। তারা বাংলাদেশের অগ্রগতি সহ্য করতে পারে না। তারা দেশের ভেতরে যেমন রয়েছে, তেমনি বিদেশেও রয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে সরকার ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের এবং সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, সাম্প্রদায়িকতার বিষয়ে ইচ্ছামতো প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে যা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। তাদের বিরুদ্ধে যত দ্রুত সম্ভব ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই অশুভ চক্রের হাত থেকে দেশ রক্ষা করতে হবে।

লেখক : কলামিস্ট ও গবেষক

[email protected]

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close