রায়হান আহমেদ তপাদার

  ২৩ জুন, ২০২১

বিশ্লেষণ

করোনার বৈশ্বিক বিস্তার ও বিভাজনের রাজনীতি

মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে সারা বিশ্ব অস্থির। আইএমএফসহ অনেকেরই শঙ্কা আরেক দফা মন্দার কবলে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব। বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তনের কারণ হতে পারে করোনা মহামারি। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী ও ব্যাপক। অনেকের ধারণা ছিল, করোনা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং চীন হবে এর প্রধান শিকার। কিন্তু করোনার বৈশ্বিক বিস্তার ভাবনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করছে। এরই মধ্যে করোনার রাজনৈতিক প্রভাবও পরিলক্ষিত হতে শুরু করেছে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব তাৎক্ষণিক হলেও অর্থনৈতিক প্রভাব হবে ধীর ও দীর্ঘস্থায়ী। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ও সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত এখন বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের নতুন হটস্পট। ১৩৬ কোটি জনসংখ্যার ভারতভূমিতে এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি মানুষের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। গত চার দিনে তা ছাড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজারের সীমা। এ সময়ে দেশটিতে প্রতিদিনই প্রাণঘাতী এই ভাইরাস শনাক্ত হচ্ছে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষের দেহে। স্বাস্থ্যব্যবস্থা অনেকটাই ভেঙে পড়ায় মৃত্যু আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ভারতের কোভিড হাসপাতালগুলোর পরিবেশ। আর পুরো বিষয়টি মোদি সরকারের রাজনৈতিক বিচক্ষণতা, দক্ষতা ও সুনামের ভিতকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

করোনাভাইরাসকে ব্যবহার করে চীনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন বেশ কিছু মার্কিন রাজনীতিবিদ। রবিবার (১৫ মার্চ) চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এমনটাই দাবি করছে। করোনায় চীনা পদক্ষেপ নিয়ে এরই মধ্যে কথার লড়াই শুরু হয়েছে দুই বিশ্বশক্তির মাঝে। সিনহুয়ার সম্পাদকীয়তে বলা হয়, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ওব্রিয়েন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও রাজনৈতিক ভাইরাস ছড়াচ্ছেন এবং চীনকে দমিয়ে রাখতে তা ব্যবহার করছেন। গেল সপ্তাহে ওব্রিয়েন বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তারে চীনা প্রতিক্রিয়া ছিল ধীরগতির। এতে বিশ্বকে দুই মাসের খেসারত দিতে হয়েছে অথচ সেই সময়টায় এটার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হতো। এদিকে পম্পেও বলেন, চীনের অসম্পূর্ণ তথ্যে এই মহামারি মোকাবিলায় মার্কিন পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যদিও সিনহুয়া বলছে, কয়েক লাখ লোককে কঠোর কোয়ারেন্টাইনে আটকে রাখাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বকে মূল্যবান সময় এনে দিয়েছে চীন, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও স্বীকৃতি রয়েছে। কিন্তু নিজ দেশের ভাইরাস মোকাবিলায় মার্কিন পদক্ষেপ ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। সিনহুয়ার অভিযোগ, উহানের অচলাবস্থার মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে। করোনাভাইরাসকে ‘উহান ভাইরাস’ কিংবা ‘চীনা ভাইরাস’ ডাকায় মার্কিন রাজনীতিবিদদের কড়া সমালোচনা করেছে চীনের এই সংবাদমাধ্যম।

------
বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করতে শুরু করে, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি নামের একটি গবেষণাগার থেকে এই ভাইরাস দুর্ঘটনাক্রমে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাজনিত কারণে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে এমনটা সন্দেহ করার অনেকগুলো কারণ আছে। যেমন যেখানে প্রথম মানবদেহে এই ভাইরাস ধরা পড়ে তার খুব কাছেই এই ল্যাবরেটরির অবস্থান; প্রথম সংক্রমণের শিকার হওয়া এলাকাটিতে বাদুড়ের উপস্থিতি ব্যাপক; আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানীদের ওই অঞ্চলে চীন সরকারের ঢুকতে না দেওয়া ইত্যাদি। মার্কিন প্রশাসন প্রথম থেকেই এসব কারণ ভালোভাবে খতিয়ে দেখার কথা বলে এসেছে। তবে সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কোভিড-১৯-এর উৎপত্তিস্থল খুঁজে বের করতে মার্কিন গোয়েন্দাদের তৎপরতাকে আরো বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। যদি শেষ পর্যন্ত ল্যাব থেকে এই ভাইরাস ছড়ানোর ভাষ্য সর্বমহলে প্রতিষ্ঠা পায়, তাহলে তা বিশ্বদরবারে চীনের ভাবমূর্তির ব্যাপক ক্ষতি করবে এবং চীনের অভ্যন্তরে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়বে। এই মহামারিকে সামাল দেওয়ার বিষয়ে একেকটি দেশের সাফল্য-ব্যর্থতাকে ওই সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক সাফল্য-ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়েছে। রাশিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রশাসন তুলনামূলকভাবে কোভিড মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। সে তুলনায় তাইওয়ান, নিউজিল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং জো বাইডেনের যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে ভালো করেছে। এরমধ্য দিয়ে মোটা দাগে বলা যায়, জনতুষ্টিবাদী নেতারা কোভিড মোকাবিলা ভালোভাবে করতে পারেননি। এর কারণ অনুগত জনগণের সমর্থন যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য তারা বিরোধীদের জনস্বাস্থ্য ইস্যুকে এড়িয়ে গেছেন। তাদের বিভাজনমূলক ও বর্ণবাদী আচরণের কারণে কোভিড-১৯ মোকাবিলা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তবে এই মহামারি দেখিয়ে দিয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ইস্যু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই বিষয়টি চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি অনুধাবন করতে পেরেছে। বলা হচ্ছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় যত মানুষ মারা গেছে বলে জানানো হচ্ছে, আদতে কোভিডে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা তার চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি। অনেক দেশ, বিশেষ করে চীন প্রকৃত সংখ্যা সবচেয়ে বেশি গোপন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে আক্ষেপের বিষয় হলো, করোনাজনিত এই মহামারি এখন যতটা না স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এই ইস্যুতে যেন মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। পাশাপশি কোন দেশ কাকে টিকা দেবে না দেবে, তা নিয়েও চলছে রাজনীতি ও কূটনীতি। কিন্তু সেটি দিন শেষে সাধারণ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। এই অবস্থা থেকে বিশেষ করে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে বেরিয়ে আসতে হবে।

কোভিড-১৯-এর মহামারি থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী যেকোনো মহামারি মোকাবিলায় চুক্তি চান বিশ্বনেতারা, যাতে সব দেশ আগে থেকে প্রস্তুত থাকতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে ২৩টি দেশের নেতারা সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। করোনাজনিত মহামারির জন্য প্রস্তুত ছিল না বিশ্ব। তাই করোনা যখন দ্রুত ছড়াতে শুরু করল, তখন সব দেশকেই কমেবেশি দিশাহারা লেগেছে। সরকারের যেমন প্রস্তুতি ছিল না, মানুষ ভাবতেও পারেনি এমন পরিস্থিতি আসতে পারে। ফলে প্রায় প্রতিটি দেশ মহামারি সামলাতে গিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতি যাতে ভবিষ্যতে আর না হয়, তার জন্য প্রস্তুত থাকতে চাইছেন অনেক রাষ্ট্রপ্রধান। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ২৩টি দেশের নেতা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চাইছে, এই প্রস্তুতির জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তি হোক। বিশ্বের প্রধান সংবাদপত্রগুলোয় প্রকাশিত হয়েছে, তাতে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেল, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধানরা সই করেছেন। সেখানেও এই চুক্তির কথা বলা হয়েছে।

এ ধরনের চুক্তির ধারণা প্রথমে দেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল। তিনি গত নভেম্বরে জি২০ বৈঠকে এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেখানে মহামারিতে টিকা, ওষুধ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সর্বজনীন ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যের কথা বলেছিলেন তিনি। নভেল করোনাভাইরাস বুঝিয়ে দিয়েছে যে, মহামারির মোকাবিলা করতে গেলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা খুবই জরুরি। করোনার তোপে বিশ্বের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। করোনা মোকাবিলায় নানা ধরনের প্রশ্ন উঠছে। তাই আন্তর্জাতিক চুক্তি দরকার বলে মনে করছেন অনেক বিশ্বনেতাই। চুক্তি হলে টিকা, ওষুধ এবং রোগ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে দেশগুলো সহযোগিতা করবে। সবাই সমান সুযোগ পাবে। ভবিষ্যতে মহামারি বা চিকিৎসা ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতি আসবে, সেই বিপদকে কোনো একক সরকার বা কয়েকটি সংস্থা মিলে মোকাবিলা করতে পারবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও জাপানের রাষ্ট্রনেতাদের সই এই নিবন্ধে নেই। আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তি তখনই সফল হতে পারে, যখন তা বাস্তবায়নের পথে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ না আসে। করোনার মহামারির সময় দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও নেতারা একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

এদিকে ধনী দেশগুলো বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন কিনে নিয়েছে। ফলে গরিব দেশগুলো ভ্যাকসিন পাচ্ছে না। অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা নিয়ে ইইউ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিবন্ধে ইইউ ও যুক্তরাজ্যের সরকার প্রধানরা একমত হয়ে বলেছেন, কোভিড-১৯ আমাদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিভাজনের সুবিধা পেয়েছে। এই মহামারি রুখতে আমরা এক হয়ে শান্তিপূর্ণ সহযোগিতা করতে পারিনি। এদিকে গত মঙ্গলবার ভবিষ্যতে মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তাবিত চুক্তিতে সম্মতি দেন ২৩ দেশের নেতারা। দেশগুলো হলো জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, নরওয়ে, গ্রিস, ফিজি, পর্তুগাল, রোমানিয়া, রুয়ান্ডা, কেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চিলি, কোস্টারিকা, আলবেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, তিউনিসিয়া, সেনেগাল, সার্বিয়া ও ইউক্রেন। চুক্তি-সংক্রান্ত চিঠিতে এখনো স্বাক্ষর করেনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। তবে দেশ দুটির নেতারা চুক্তিবিষয়ক প্রস্তাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস বলেছেন, মহামারির বিরুদ্ধে প্রস্তুতি আরো দৃঢ় করতে হবে। এজন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির বিষয়ে এ বছরই আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাপ্রধান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ‘গুরুতর চ্যালেঞ্জ’ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় নমনীয় এবং টেকসই তহবিল প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মহামারি চুক্তির বিষয়ে এখনই আলোচনা শুরু করার প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ২৯ নভেম্বর ডব্লিউএইচওর ১৯৪ সদস্য দেশের মন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন বলেও এ দিন সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিকে সামনে রেখে হার্ভার্ডের রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক ড্যানি রড্রিক মনে করেন, নয়া উদারতাবাদ ও বিশ্বায়নের ধারণা দিন দিন আকর্ষণ হারাবে। লোকরঞ্জনবাদী কর্তৃত্ববাদী শাসকদের অবস্থান আরো পাকাপোক্ত হবে। বিশ্বায়নের নীতিকে জাতীয়তাবাদী ধারণা প্রতিস্থাপিত করবে। রাষ্ট্রের ভেতরে ধনিকশ্রেণি, নব্য ফ্যাসিবাদ এবং বিশ্বায়নবাদী উদারপন্থিদের মধ্যে লড়াই আরো প্রকট হবে।

 

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

[email protected]

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close