আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  ২১ ঘণ্টা আগে

নাইজারের বিমানবন্দরে বন্দুকধারীদের হামলায় ১১ সেনাসহ নিহত ৩৫

নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম বিমানবন্দরে সশস্ত্র হামলায় ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সংঘটিত এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সংগঠন জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম)। গত পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে একই বিমানবন্দরে এটি দ্বিতীয় হামলা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলায় ১১ জন সেনাসদস্য ও ২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এ ঘটনায় ২২ জন হামলাকারীও নিহত হয়েছেন।

মুসলিম অধ্যুষিত দেশটির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকালে নামাজ শেষ করার পরপরই রাজধানীর ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।

নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। নিহতদের পাশাপাশি আরও চারজন আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকালের মধ্যেই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজতে অভিযান শুরু করে। অভিযানে আরপিজি-৭ লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, বিস্ফোরক, গ্রেনেড, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং হাজার হাজার রাউন্ড গুলিসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ২০ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা হামলাকারীদের খোঁজার অভিযানে যোগ দেন। তবে নিরাপত্তা বাহিনী বেসামরিক লোকজনকে এতে জড়ানো থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, হামলাকারীরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত করা সহজ ছিল না। আত্মরক্ষার জন্য অনেক বেসামরিক ব্যক্তি দা ও লাঠি হাতে নেন।

আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি নাইজারের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন, যাদের পদক্ষেপের ফলে হামলা প্রতিহত করা এবং বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিবিসিকে বলেন, ফজরের নামাজ শেষ করার পরপরই তাঁরা দিয়োরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শুনতে পান। রাজধানী নিয়ামেতে বিমানবন্দরটির অবস্থান।

নাইজারে এক দশক ধরে সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীর ইসলামপন্থীদের বিদ্রোহ চলছে। জানুয়ারিতে সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটসম্পৃক্ত একটি সংগঠন একই বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছিল। এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে আরপিজি–৭ লঞ্চার, একে–৪৭ রাইফেল, বিস্ফোরক, গ্রেনেড, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং কয়েক হাজার গুলি।

সশস্ত্র স্থানীয় বাসিন্দারাও তল্লাশি অভিযানে অংশ নেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসিকে বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ মানুষকে এতে জড়িত হতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়