কর্মক্ষেত্রে নতুন উদ্দীপনা
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের দক্ষতা নবায়ন প্রশিক্ষণ ‘সঞ্জিবনী কোর্স’ সম্পন্ন

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ১০-১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী দক্ষতা নবায়ন ও পেশাগত উৎকর্ষ সাধন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘সঞ্জিবনী কোর্স’ আজ বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-তে সমাপ্ত হয়েছে। ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সেতু কর্তৃপক্ষের ১০-১৬তম গ্রেডের কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন।
শনিবার অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া-এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ) জনাব মোঃ দেলোয়ার হোসেন ।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়েছিল আজ সঞ্জিবনী কোর্স সম্পন্নের মাধ্যমে প্রকল্পটির সফল সমাপ্তি ঘটলো। প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক(প্রশাসন) ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব জনাব আলতাফ হোসেন সেখ।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, “সরকারি কর্মচারীরাই হলো রাষ্ট্রের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা একটি ‘নিরাপদ, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছি। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি কর্মচারীকে সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার উৎকর্ষ সাধন করতে হবে। ‘সঞ্জিবনী’ প্রশিক্ষণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি আপনাদের কর্মজীবনের নতুন প্রেরণা। আমি আশাবাদী যে, আজকের এই প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত শিক্ষা আপনাদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল কাজে প্রতিফলিত হবে।”
সঞ্জিবনী কোর্স সমাপনী উপলক্ষ্যে প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব জনাব আলতাফ হোসেন সেখ বলেন, “বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সরকারি সেবা প্রদানকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যেই আমাদের এই ‘সঞ্জিবনী’ কোর্সের উদ্যোগ গ্রহণ। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মচারীদের মধ্যে কাজের প্রতি নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, যা তাদের দাপ্তরিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আমরা আশা করছি, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান তারা কর্মক্ষেত্রে সেবার মান নিশ্চিত করতে কার্যকরভাবে ব্যবহার করবেন।”
সভাপতির বক্তব্যে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-এর পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের চাবিকাঠি হলো এর মানবসম্পদের সঠিক উন্নয়ন। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে যে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে, তার পেছনে রয়েছে আপনাদের মতো নিবেদিতপ্রাণ কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম। পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে এবং এই ‘সঞ্জিবনী’ কোর্সটি সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।”
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এরপর প্রধান অতিথি অংশগ্রহণকারী সকল প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সড়কপথে ঢাকা ফেরার পথে সেতু বিভাগের সচিব ও নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ যমুনা সেতু সাইট অফিস এলাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় চলমান বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বর্ষা মৌসুমের মধ্যে পরিকল্পনা মতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম শেষ করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়া তিনি সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সারা বাংলাদেশে একই পদ্ধতিতে সমন্বিতভাবে সেতুতে টোল আদায়ের জন্য ইটিসি লেন চালুরকরণের ক্ষেত্রে আরএফআইডি(RFID) রিডার, ONVIF ফিচার সমৃদ্ধ ANPR ক্যামেরা স্থাপন ও সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার বিষয় গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সেতুর আশপাশের পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়ন এবং আধুনিক টোল কার্যক্রম আরও জনবান্ধব ও গতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।









































