ফারুক হোসেন ডন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)

  ৮ ঘণ্টা আগে

নাচোলে মাদরাসা সংস্কার প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক

ইউএনওর উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তাকে জড়ানোর অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে একটি মাদরাসার সংস্কার প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার দাবি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের হলেও, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইউএনও কার্যালয়ের এক উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তাকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসন, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের আলীশাপুর দাখিল মাদরাসার ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত টিনের চালা মেরামতের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পিআইসি কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন নাচোল এলজিইডি কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী ফাহাদ আলী। পিআইসি কমিটির সভাপতি ও ফতেপুর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ইসমতারার তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও আয়কর (আইটি) কর্তনের পর অবশিষ্ট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে টিনের চালা পুনর্নির্মাণ করা হয়। কাজ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে মর্মে মাদরাসার সুপার মাওলানা রবিউল ইসলাম লিখিত প্রত্যয়নও প্রদান করেন।

তবে পরে প্রকল্পের সভাপতি ইসমতারা, মাদরাসার সুপার মাওলানা রবিউল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীর মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইউপি সদস্য ইসমতারা দাবি করেন, প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে হয়নি এবং তাকে না জানিয়ে প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্যও দেন। তবে তার বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, এরপর এক সাংবাদিক একটি দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন টেলিভিশনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইউএনও কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের নাম উল্লেখ করে তাকে দায়ী করার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সাদেকুল ইসলাম বলেন, ২ লাখ টাকার প্রকল্পে ভ্যাট ও আয়কর কর্তনের পর অবশিষ্ট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প সভাপতি এ বিষয়ে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি বিল-ভাউচার, চুক্তিপত্রসহ (এগ্রিমেন্ট) সব কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া মাদরাসার সুপারও কাজ সম্পন্ন হওয়ার লিখিত প্রত্যয়ন দিয়েছেন।

এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলীও জানান, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্প সভাপতি মোসা. ইসমতারা প্রকল্প-সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং মাদরাসার সুপার কাজের সন্তোষজনক সমাপ্তির প্রত্যয়ন দিয়েছেন।

ইউএনও কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, আমি শুধু প্রকল্পের চেকটি রেজিস্টারে এন্ট্রি করে ফাইল নোট লিখে ইউএনওর কাছে উপস্থাপন করেছি। টাকা-পয়সা লেনদেনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা জাহিদ হাসান গত ২৭ এপ্রিল অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় নাচোল উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, সাংবাদিকতার আড়ালে কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও মনগড়া অভিযোগ প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়