নিজস্ব প্রতিবেদক
৩৩ মাসে এনআইডি সেবা থেকে ৪২৪ কোটি টাকা আয় ইসির

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই, সংশোধন, হারানো কার্ড পুনঃইস্যু এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই সেবা থেকে গত ৩৩ মাসে ৪২৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তবে এই বিপুল অর্থ নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব তহবিলে না গিয়ে সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই এবং নাগরিকদের এনআইডি সংশোধন ও হারানো কার্ডের ফি থেকে এ আয় হয়েছে। তবে এই অর্থ সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না ইসি। সব অর্থ জমা হয় সরকারি কোষাগারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনআইডিভিত্তিক সেবার চাহিদা ও ব্যবহার বাড়তে থাকায় আগামী দিনে এ খাত থেকে রাজস্ব আয় আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত যে হিসাব আমার কাছে রয়েছে, সে হিসাবে গত তিন বছরে এনআইডি থেকে নির্বাচন কমিশনের আয় হয়েছে ৪০০ কোটির বেশি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সেবাগ্রহণকারী প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বিভিন্ন সময়ে নাগরিকদের তথ্য আমাদের কাছ থেকে যাচাই করে নেয়। এ ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের এককালীন নিবন্ধন ফি, নিবন্ধন নবায়ন ফি এবং এনআইডি সংশোধন ও হারানোর জন্য নাগরিকদের দেওয়া ফিও রয়েছে। এসব অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়। ইসি চাইলেও এনআইডি থেকে অর্জিত আয় ব্যবহার করতে পারে না।
এনআইডি থেকে আয়ের আর্থিক বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এনআইডি থেকে ইসির আয় হয়েছে ৪২৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩৪ হাজার ১৯ টাকা। এর মধ্যে সেবাগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এককালীন নিবন্ধন ফি ও নিবন্ধন নবায়ন ফি বাবদ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় হয়েছে ১ কোটি ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৫ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আর ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত আয় হয়েছে ৪ কোটি ৪১ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।
সেবাগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নাগরিকদের তথ্য যাচাই বাবদ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় হয়েছে ১২৭ কোটি ২৯ লাখ ৭৩ হাজার ৭০৪ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় হয়েছে ১১২ কোটি ২৪ লাখ ২৮ হাজার ২৭০ টাকা। আর ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত আয় হয়েছে ৯১ কোটি ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ টাকা।
জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ও হারানো কার্ডের ফি বাবদ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় হয়েছে ২৮ কোটি ৮৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮৫ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা। আর ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত আয় হয়েছে ২০ কোটি ৭৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৫ টাকা। ২০২৬ সালের এপ্রিল, মে ও জুন মাসে কত টাকা আয় হয়েছে, জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি জুন মাসের হিসাব চূড়ান্ত হলে তা জানা যাবে।
এনআইডি সংশোধন নিয়ম পরিবর্তনে কমিটি গঠন : জানা যায়, শুরুতে প্রতি এনআইডির তথ্য একবার যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ১ টাকা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ২ টাকা করে ফি দিতে হতো। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ২ মার্চ জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ফি অপরিবর্তিত রেখে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফি ২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ইসির নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৩ টাকা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৮ টাকা করে দিতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। ফলে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে এ খাতের আয় আরো বাড়বে।
সূত্র জানায়, এনআইডির তথ্য যাচাই সেবা নিতে বর্তমানে ২০০টি প্রতিষ্ঠান ইসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ৬৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, ৬৩টি ব্যাংক এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তফসিলভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানি।
এনআইডি যাচাই করতে হলে চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সরকারি কোষাগারে এককালীন সার্ভিস চার্জ হিসেবে ৫ লাখ টাকা জমা দিতে হয়। এর পাশাপাশি রয়েছে বার্ষিক নবায়ন ফি। সূত্র জানায়, আগে ইসির সার্ভার থেকে অনলাইনে কোনো ব্যক্তির এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে অনুসন্ধান করলে ডাটাবেজ থেকে তার নাম, এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, বাবার নাম, মায়ের নাম, স্বামী বা স্ত্রীর নাম এবং ছবি যাচাই করা যেত। বর্তমানে শুধু ম্যাচ বা নো ম্যাচ দেখানো হয়।
তবে বেওয়ারিশ লাশ, জঙ্গি ও অপরাধীদের আঙুলের ছাপ অনলাইনে পাঠানো হলে সার্ভারে সংরক্ষিত বায়োমেট্রিক তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে র্যাব, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), পিবিআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।
"








































