ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
বিএনপি নেতা হারুন আল-রশীদের মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের ৫বারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশীদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, ১ কন্যা, জামাতা, পুত্রবধূ, দুই ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।
শুক্রবার সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, বাদ আসর নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার বাদ জোহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
অ্যাডভোকেট হারুন-আলরশীদের মৃত্যুতে তিন দিনের শোক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান চৌধুরী কানন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার থেকে আগামী তিন দিন জেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সর্বসাধারণের কালো ব্যাজ ধারন, দলীয় কার্যালয় ও মরহুমের বাসভবনে কালো পতাকা উত্তোলন, দিনব্যাপী মরহুমের বাসভবনে কোরআন খতম এবং বাদ জুমা জেলা ও উপজেলার সব মসজিদে দোয়া ও প্রার্থনা।
অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশীদ ১৯৩৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের নরসিংসার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌলভীপাড়ার নিজ বাসভবনে বসবাস করতেন। তার পিতার নাম মরহুম আবদুল বারিক মোক্তার। অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশীদ আইন পেশা থেকে রাজনীতিতে এসে জাতীয়ভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশীদ ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩- আসন থেকে নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য থাকা কালে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরে চিফ হুইপ নির্বাচিত হন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তিনি নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশীদ বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বন পালন করেন। তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব। পৃথক পৃথক শোকবার্তায় নেতারা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
"








































