নিজস্ব প্রতিবেদক
মাটি ও মানুষের কবি আল মুজাহিদী আর নেই

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী আর নেই। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিনি হাসপাতালটির করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি ছিলেন।
কবি আল মুজাহিদী বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি, গবেষক, সম্পাদক ও সাহিত্যসেবী। কবি আল মুজাহিদীর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৯ জুন, টাঙ্গাইলে, তখন টাঙ্গাইল অঞ্চল ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই কবি ষাটের দশকের বাংলা কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। তার কবিতায় বাংলাদেশের মাটি, মানুষ, ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের গভীর অন্বেষণ ফুটে উঠেছে। মৃত্তিকার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, প্রকৃতি, প্রেম, জাতীয় চেতনা এবং আত্মদর্শন তার কাব্যজগতের প্রধান অনুষঙ্গ।
আল মুজাহিদীর দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে কবিতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তিনি দীর্ঘ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে নতুন লেখকদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। তার সাহিত্যকর্মে একদিকে যেমন রয়েছে গ্রামীণ জীবনের গন্ধ, অন্যদিকে ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, সমাজ ও রাজনীতির গভীর পর্যবেক্ষণ। ফলে তার কবিতা কেবল নান্দনিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাতিসত্তা ও মানবিক মূল্যবোধেরও এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠেছে।
দুই বাংলার সাহিত্যপ্রেমীদের কাছেও তিনি সমানভাবে সমাদৃত ছিলেন। তার লেখনিতে আছে শেকড়ের প্রতি অনুরাগ, মানুষের প্রতি মমত্ব এবং সময়কে গভীরভাবে অনুধাবনের ক্ষমতা।
কবি আল মুজাহিদীর প্রয়াণ বাংলা সাহিত্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার কবিতা, চিন্তা ও সাহিত্যকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দীর্ঘদিন প্রেরণা জোগাবে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে অভিমত সাহিত্য অনুরাগীদের।
"








































