চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলা
ডাকাতি ও মা মেয়েকে ধর্ষণ আটক ৬

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় গৃহবধূ ও তার কন্যাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করেছে। একটি ডাকাতির ঘটনা গ্রামীণ জনপদে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা, সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের দৌরাত্ম্য এবং নারীর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের প্রতিফলন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে বাড়িতে অবস্থানরত এক নারী ও তার স্কুলছাত্রী কন্যাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। গত সোমবার রাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মাতামুহুরী তদন্তকেন্দ্র ও চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগীর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ জানান, তার ভাগ্নির অবস্থা আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। মঙ্গলবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আটকদের মধ্যে ৪ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন, রেজাউল, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত ও তানজিদ। আটকদের সবাই একই ইউনিয়নের।
মাতামুহুরী তদন্তকেন্দ্রের পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা, ডাক্তারি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। মাতামুহুরী তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা সঠিক বলে জানিয়েছেন। চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং অধিকতর তদন্তে তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
নতুন উপজেলা, পুরোনো চ্যালেঞ্জ : সম্প্রতি প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তনের মাধ্যমে মাতামুহুরীকে নতুন উপজেলা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নতুন প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে কার্যকর পুলিশি নজরদারি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং অপরাধ প্রতিরোধ কৌশল জোরদার করা জরুরি। তাদের মতে, এ ঘটনা নতুন উপজেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। এদিকে ঘটনার পর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল, রাতের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন।
"






































