নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্রাহকের অজান্তে লেনদেন, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

গ্রাহকের অজান্তেই ক্রেডিট কার্ড উত্তোলন করে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এক ব্যাংক কর্মকর্তা। এমন ঘটনায় ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল মঙ্গলবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানান।
?সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার সারোয়ার হোসেন ২০১৭ সালে একটি স্বনামধন্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার, কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং পদে কর্মরত ছিলেন। সেসময় একজন গ্রাহক তার নামে একটি ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর আবেদন করেন। পরে প্রয়োজন না হওয়ায় গ্রাহক কার্ডটি ব্যবহার না করে ব্যাংকে ফেরত দিলেও গ্রেপ্তার সারোয়ার হোসেন ক্রেডিট কার্ডটি ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন।
সারোয়ার হোসেন ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন, যাতে সব ওটিপি তার কাছে পৌঁছে। পরে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন।
সিআইডি জানায়, সম্প্রতি ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো রিপোর্টের (সিআইবি) এক প্রতিবেদন থেকে জানতে পারেন তার নামে ২০১৭ সালে ইস্যুকৃত হতে ঋণ গ্রহণ আছে এবং উক্ত ঋণের সম্পর্কে অবগত না এবং তিনি কোনো প্রকার ঋণও গ্রহণ করেন নাই। ভুক্তভোগী গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ জানালে বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি উদঘাটিত হলে ব্যাংকটির পক্ষ হতে এ সংক্রান্তে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা করা হয়।
?মামলাটির তদন্তে জানা যায়, ভুক্তভোগী গ্রাহকের অজান্তে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ২০১৭ সালের শেষ হতে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকা লেনদেন করা হয়। পরে মোট লেনদেনের বিপরীতে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও অবশিষ্ট লভ্যাংশসহ ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়।
সিআইডি আরো জানায়, তাকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। গ্রেপ্তার অভিযুক্ত এরকম আরো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জালিয়াতি পূর্বক অর্থ আত্মসাৎ করেছে কি না সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহে কার্যক্রম অব্যাহত আছে। গ্রেপ্তারকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান।
"






































