ইদ্রিস আলী, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)
সামনে বর্ষা, চৌহালীতে নৌকা তৈরির ধুম

সিরাজগঞ্জের চৌহালীর যমুনা নদীসহ অভ্যন্তরীণ নদীগুলোয় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নৌকা তৈরির ধুম। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে বিভিন্ন কারখানাগুলোয় নৌকা তৈরির করে হাটে বিক্রি হচ্ছে এসব নৌকা। দিনরাত হাতুড়ি আর বাটালের ঠকঠকানিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কাঠমিস্ত্রিরা। সরেজমিন দেখা যায়, কাঠমিস্ত্রিরা (সুতাররা) কেউ বাড়ির আঙিনায়, কেউ স-মিলে আবার কেউ কেউ হাটের পাশে নৌকা তৈরি করছেন। জানা যায়, যমুনা ও ধলেশ্বরী নদী বেষ্টিত হওয়ায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মধ্যে বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া যাতায়াতে প্রায় অসম্ভব। আর তাই বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে নৌকা তৈরির কাঠমিস্ত্রিরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দিনরাত কাঠ চিরানো, তক্তা, গুঁড়া বানানো, তারকাঁটা ও পাতাম দিয়ে তক্তা জোড়া লাগানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এসব কাঠমিস্ত্রি।
কাঠমিস্ত্রিরা জানান, খাষকাউলিয়া, খাষপুখুরিয়া, বাঘুটিয়া ও সদিয়াচাঁদপুরের কিছু পাকা রাস্তা ছাড়া সব এলাকায়ই বর্ষা মৌসুমে পানিবন্দি হয়ে পড়ে এ এলাকার মানুষ। ফলে বর্ষা মৌসুমে নৌকাই একমাত্র ভরসা। বর্ষায় এপাড়া থেকে ওপাড়া যাতায়াতের জন্য ছোট ছোট নৌকার বেশি প্রয়োজন হয়। ধলেশ্বরী ও যমুনা নদীতে চলাচল করতে এবং দূরের কোথাও চলাচল করতে বড় নৌকা ছাড়া চলে না। তবে বড় নৌকা চেয়ে ছোট নৌকার কদর বেশি। তবে অধিকাংশ কাঠমিস্ত্রি জানান, বর্ষা মৌসুমে কাঠমিস্ত্রির কাজ করেই তাদের সংসার চলে। ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদার কাছে নৌকা বানানো শিখেছেন তারা। কাঠমিস্ত্রির কাজ তাদের নেশা ও পেশা। একটি নৌকা তৈরিতে তাদের সময় লাগে দুয়েকদিন।
খাষকাউলিয়া আজিমউদ্দিন মোড়ের কাঠমিস্ত্রি মো. শুকুর আলী জানান, দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে কাঠমিস্ত্রির কাজ করছেন তিনি। বাপ-দাদার শিখিয়ে যাওয়া কাজ এখন তাদের নেশা ও পেশা হয়ে গেছে। একটি ছোট নৌকা তৈরি করতে দুয়েকদিন সময় লাগে। একটা ছোট নৌকা তৈরি করতে কাঠমিস্ত্রিকে দিতে হয় ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৩ থেকে সাড়ে ৩ কেজি তারকাঁটা লাগে, যার দাম সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা । আর এতে মোট খরচ হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। হাটে এসব ছোট নৌকা ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।
কাঠমিস্ত্রি আইয়ুব আলী জানান, শিশুকালে হাতুড়ি-বাটালের সঙ্গে বড় হয়েছেন তিনি। তার চাচার কাছে শেখা এ পেশাকেই মূল পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি চুক্তিতে বায়নায় নৌকা তৈরি করেন। এতে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরি পান। বর্ষার সময় আয়-রোজগার ভালোই হয়। সারা বছরই কাঠমিস্ত্রিরির কাজ যেমন ঢেউটিনের ঘর তৈরি থেকে শুরু করে কাঠের সব কাজই করেন। তিনি এ পেশায় প্রায় ২৫ বছর ধরে রয়েছেন। আরেক কাঠমিস্ত্রি রজব আলী জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি এ পেশার সঙ্গে জড়িত। বর্ষার সময় নৌকা তৈরি ও অন্য সময় ঘর তৈরির কাজ করেন। বর্ষা মৌসুমে নৌকার খুবই কদর থাকে। এ সময় নৌকার কাজ বেশি করেন।
"






































