reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

‘দ্যা আর্ট অ্যান্ড সায়েন্স অব পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জারি

বিএমইউতে ইভলভিং স্ট্যাটাস শীর্ষক সিএমই প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

জন্মগতভাবে হৃদপিন্ডে ছিদ্রজনিত সমস্যাসহ জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে এবং একাডেমিক ও ক্লিনিক্যাল সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ)-এর নিনমাস অডিটোরিয়ামে ‘দ্যা আর্ট অ্যান্ড সায়েন্স অব পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জারি: ইভলভিং স্ট্যাটাস (The Art and Science of Pediatric Cardiac Surgery: Evolving Status)’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ কন্টিনিউয়িং মেডিকেল এডুকেশন (সিএমই) প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয় এবং বিনামূল্যে রোগী স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম সম্পন্ন করা হয়।

বিএমইউ এর শিশু কার্ডিওলজি বিভাগ, ভারতের মেডস্তান হেলথকেয়ার-অলকিউর (Medestan Healthcare–OLCURE) ও ম্যাক্স হেলথকেয়ার এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সিএমই-তে ও বিনামূল্যে রোগী স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএমইউ এর সম্মানিত উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, শিশু কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. তারিকুল ইসলাম, কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আসলাম হোসেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন এবং কী নোট স্পীকার ছিলেন নয়া দিল্লীর ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের নিওনেটাল অ্যান্ড কনজেনিটাল হার্ট সার্জারি এর চেয়ারম্যান ডা. কুলভুষণ সিং ডাগর, এমবিবিএস, এমএস, এমসিএইচ (Dr. Kulbhushan Sing Dagar)। আরো প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমইউ এর শিশু কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাহমিনা করিম ও কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতা উল্লাহ।

গুরুত্বপূর্ণ এই সিএমইতে দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় সার্জন, কার্ডিওলজিস্ট, শিক্ষাবিদ ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীরা অংশ নেন এবং শিশু হৃদরোগ চিকিৎসার সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও আঞ্চলিক ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তারা জানান, আগামীতে বাংলাদেশে আরও সিএমই প্রোগ্রাম, ফ্রি রোগী স্ক্রিনিং ক্যাম্প এবং শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। গত আড়াই বছর ধরে বিএমইউ এবং মেডিস্তান হেলথকেয়ার-অলকিউর এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর অধীনে ক্লিনিক্যাল সহযোগিতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা শিক্ষার প্রসার, রোগীদের সহায়তা প্রদান এবং উন্নত চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই সিএমই প্রোগ্রাম ও বিনামূল্যে রোগী স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম তারই অংশ।

মহতী এই আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, এই ধরণের উদ্যোগ যেমন জন্মগতসহ জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুরা উপকৃত হবে, একই সাথে বিএমইউসহ বাংলাদেশের হৃদরোগ বিষয়ক শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট ছাত্রছাত্রীরা তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ জ্ঞানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পারবেন। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের মধ্যে এ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্টরা পারস্পরিক জ্ঞানের আদান-প্রদান, অভিজ্ঞতা বিনিময়, তথ্যের আদান প্রদান, চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিত্য নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন বিষয়ে ধারণা লাভ করার সুযোগ পাবেন। যা প্রকৃতপক্ষে জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত শিশু হৃদরোগীদের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই মহতী উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ জন শিশু হৃদরোগীকে নিয়ে বিনামূল্যে রোগী স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম সম্পন্ন করা হয় এবং তাদের মধ্যে থেকে নির্বাচিতদের বিনামূল্যে ভারতে উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। নয়া দিল্লীর ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের নিওনেটাল অ্যান্ড কনজেনিটাল হার্ট সার্জারি এর চেয়ারম্যান ডা. কুলভুষণ সিং ডাগর নেতৃত্বে ভারতের ৫ জনের একটি চিকিৎসক প্রতিনিধি দল ও বিএমইউ এর শিশু কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ তারিকুল ইসলামসহ উক্ত বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্টবৃন্দ রোগী স্ক্রিনিং প্রোগ্রামে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, মেডিস্তান-অলকিউর এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের ২০০ জন শিশুকে বিনামূল্যে হৃদরোগ সার্জারি ও অন্যান্য জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোতে এই জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচারগুলো সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে মূলত জন্মগত ও অর্জিত জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত এমন শিশুরা নতুন জীবন পেয়েছে, যাদের উন্নত বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত ছিল।

অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, চিকিৎসা সেবা আরও সহজ ও আধুনিক করতে মেডিস্তান-অলকিউর খুব শীঘ্রই একটি বিশেষায়িত হেলথকেয়ার টেলিকনসালটেশন প্ল্যাটফর্ম চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে রোগীরা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে ভ্রমণের আগেই আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ঘরে বসেই ‘সেকেন্ড ওপেনিয়ন’ বা দ্বিতীয় মতামত নিতে পারবেন। এই প্ল্যাটফর্মটির মূল লক্ষ্য হলো আন্তঃসীমান্ত স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য, স্বচ্ছ এবং ঝামেলাহীন করে তোলা।

তারা জানান, এই দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব প্রমাণ করে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং রোগী-সহায়তা সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্বমানের চিকিৎসা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীদের জীবনকে কতটা ইতিবাচকভাবে বদলে দেওয়া সম্ভব। মেডিস্তান হেলথকেয়ার-অলকিউর সূত্র আরো জানায়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি সহজতর করা, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহযোগিতা বৃদ্ধি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে টেলিমেডিসিন সেবা প্রদান এবং বিশেষায়িত রোগী-সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় তারা অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়