অনলাইন ডেস্ক
  ১৯ জানুয়ারি, ২০২১

পাঠাগার হোক মানুষের সহায়ক শক্তি

অন্তহীন জ্ঞানের উৎস হলো বই। আর সেই বইয়ের আবাসস্থল হলো পাঠাগার। একটি জাতির বিকাশ ও উন্নতির মানদন্ড হলো পাঠাগার। এই পাঠাগারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গড়ে উঠে সংহতি, যা দেশ গড়া কিংবা রক্ষার কাজে এক অমূল্য অবদান। চিন্তাশীল মানুষের কাছে গ্রন্থাগারের উপযোগিতা অনেক বেশি। গণতন্ত্রের সাফল্যে গ্রন্থাগারের ভূমিকা গণমাধ্যমের চেয়ে কম নয়। আধুনিক বিশ্বে গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। গ্রন্থাগার সবার জন্য উন্মুক্ত। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা নেই এখানে, নেই হানাহানি, কলহ; সুতরাং জাতির মর্যাদাবোধের উন্নয়নে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য পাঠাগার হলো একটি সহায়ক শক্তি।

যুুগে যুগে সমাজের সুধী-সজ্জন ব্যক্তিদের দ্বারাই গড়ে উঠেছে পাঠাগার। মনকে সতেজ ও প্রসারিত করে জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্য যা অবশ্যই অপরিহার্য। সেই অন্তঃতাগিদ থেকেই হাসপাতালে পাঠাগার বা বই পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন চিকিৎসক মকছেদুল মোমিন। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি গড়েছেন এই পাঠাগার। এটি এখন হাসপাতালটিতে জ্ঞানের বাতিঘর হিসেবে কাজ করছে। এত দিন আমরা জানতাম রোগের চিকিৎসা হয় হাসপাতালে, কিন্তু মানুষের মানসিক উৎকর্ষতা, কাজকর্মে স্বচ্ছতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, উন্নত জীবনযাপন সর্বোপরি নিজেকে জানার জন্যই এবার হাসপাতালে গড়ে উঠল পাঠাগার। চিকিৎসক মকছেদুল মোমিন নিঃসন্দেহে একজন আলোকিত মানুষ। কারণ তিনি মানুষের রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি মননের উৎকর্ষতার জন্য যে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বর্তমানে এখানে চিকিৎসা নিতে নয়, অনেক দর্শনার্থী বেড়াতে আসেন। এ ছাড়া রোগীর সঙ্গে হাসপাতালে আসা ব্যক্তিরা একসময় অলস ঘোরাঘুরি সময় কাটাতেন। সেসব ব্যক্তি এখন হাসপাতালের পাঠাগারে গিয়ে হাতে বই তুলে নিচ্ছেন। মনোযোগ দিচ্ছেন পাঠে। এই পাঠাগারের জন্য মানুষের পড়ে থাকা বইগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে শতাধিক বই দিয়ে পাঠাগারটি সাজানো হয়েছে। আমরা আশা করি, দিনে দিনে এই বইয়ের কলেবর আরো বৃদ্ধি পাবে। দেশি-বিদেশি নামিদামি লেখকদের মননশীল গ্রন্থে সমৃদ্ধ হবে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাঠাগার। শুধু তাই নয়, একসময়ের অপরিচ্ছন্ন হাসপাতাল আর আগের মতো নেই। বদলে গেছে তার চারপাশ। পুষ্প শোভিত বাগান। প্রবেশ পথের দুই পাশে বিভিন্ন জাতের ফুল ও ফলের গাছ। হাসপাতাল চত্বরে সবুজ পল্লব। সেই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে সেবার মান। গাইনি কনসালট্যান্ট না থাকা সত্ত্বেও এই হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসব বেড়েছে। স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় ১২টি অতিরিক্ত বেড সংযোজন, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এসবই ডা. মকছেদুল মোমিনের কর্মনিষ্ঠার জ্বলন্ত উদারহরণ।

জাতীয় জীবনে পাঠাগারের গুরুত্ব অনেক। সেই নিরিখে বলা যায়, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যেমন খাদ্য প্রয়োজন, তেমনি মানুষের ক্লান্ত ও বুভুক্ষু মনকে প্রফুল্ল করতে পারে একমাত্র বই, আর পাঠাগার হলো সেই বইয়ের আধার। হাসপাতালে পাঠাগার স্থাপন করে জাতির জন্য যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো, তা নিঃসন্দেহে এক বিশাল উদ্যোগ। পাঠাগার হলো মানবসভ্যতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আর সেই সম্পদের যথোপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে তার প্রকৃত উপকার যাতে প্রতিটি মানুষ ভোগ করতে পারে, সে কারণে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাঠাগার গড়ে তোলা প্রয়োজন; যা জাতির জন্য হবে একেকটি আলোকবর্তিকা।

পিডিএসও/ জিজাক

পাঠাগার
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close