শেষ ভালো যার সব ভালো তার

দিনটা ভালো যাবে। সকাল তার পূর্বাভাস দিয়েছে। অর্থাৎ শুরুটা ভালো হলে, বাকিটাও ভালো যায়। বাক্যটি বহুল প্রচলিত এবং সনাতন একটি ধারণা। ধারণাটি অমূলক নয়, দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতার নির্যাস থেকে তুলে নেওয়া। ধারণাটি একসময় প্রবচনে রূপ নেয়। বলা হয়, ‘শুরু ভালো যার শেষ ভালো তার’। আমরা যখন দেখলাম, রাজধানীর খালগুলোর দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার এক দিন পরই কাজ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তখন বলতেই হয়, ‘শুরু ভালো যার শেষ ভালো তার’। গত শনিবার সকাল থেকে পান্থকুঞ্জ এলাকায় বক্স কালভার্টে বর্জ্য সরানোর কাজ শুরু করেন সংস্থার কর্মীরা। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিটি বক্স কালভার্টে আটকে থাকা আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি ভরাট হওয়া খালগুলোর কাজ চলবে। একই সঙ্গে সম্পত্তি বিভাগ সিএস রেকর্ড অনুযায়ী খালের সীমানা নির্ধারণ করতে জরিপ চালাচ্ছে। জরিপ শেষে দখল হওয়া অংশ উচ্ছেদ করে সীমানা নির্ধারণ করা হবে। ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, কোনো দখলদারকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আমরা ঘরপোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পাই। আমাদের অতীত এই ভয় পাওয়াকে স্থায়িত্ব দিয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই এসেছেন। কথা দিয়েছেন। তবে, কথা রাখতে দেখা যায়নি কাউকেই। বিশেষ করে খাল-বিল দখলদারদের উচ্ছেদ করে ঢাকা মহানগরকে পরিচ্ছন্ন করতে, একটি নান্দনিক শহরে রূপান্তর ঘটাতে। নতুন মেয়রের কথায় আমরা আশ্বস্ত হতে চাই। চাই এ মহানগরকে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগর হিসেবে দেখতে। তথ্য মতে, চলতি সালের জুনের মধ্যেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করতে চায় সিটি করপোরেশন। ইতোমধ্যে ডিএসসিসি এলাকার পান্থপথ বক্স কালভার্টের পাঁচটি পিট থেকে ৭৪ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
এই একটি অপারেশন থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, মহানগর ঢাকা কত লাখ টন আবর্জনা বুকে নিয়ে বেঁচে আছে। বেঁচে আছে প্রায় দুই কোটি নগরবাসী। এভাবে বেঁচে থাকাকে বেঁচে থাকা বলে না। পরিবেশ দূষণের মাত্রা আমাদের সবারই জানা। বিশ্বের দূষিত শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান তৃতীয় স্থানের নিচে কখনো নামেনি। তথ্য মতে, করপোরেশন আগামী মার্চের মধ্যে তিনটি খাল থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজ শেষ করতে চায়। এ কাজ শেষ হলে ঢাকা অনেকাংশে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে পারে। পাশাপাশি আরো একটি সুসংবাদ হলো, ডিএসসিসি তার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে কাজের সূচনা করেছে। অবশ্য কারিগরি সহায়তা পাওয়া যাবে ওয়াসার কাছ থেকে। আমরা মনে করি, করপোরেশনের এই জনকল্যাণমুখী কাজে ওয়াসা তার সর্বাত্মক সহযোগিতাসহ এগিয়ে আসবে। আগের মতো দড়ি টানাটানি থেকে বিরত থাকবে। দীর্ঘ সময় ধরে নগরবাসী এই দড়ি টানাটানির খেলা দেখেছে। নতুন করে আর যেন পুরোনো খেলার প্রাদুর্ভাব না ঘটে। ঢাকা পরিচ্ছন্ন হলে ঢাকাবাসীর মনটাও পরিচ্ছন্ন হবে। আগামী প্রজন্ম সেই পরিচ্ছন্ন নগরে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়ে সু-নাগরিক হিসেবে দাঁড় করাতে সক্ষম হবে। আমরা ডিএসসিসি মেয়রের কথার ওপর আস্থা রেখে বলতে চাই বাংলায় আরো একটি প্রবচনের প্রচলন আছে, ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তার’। আমরা শেষটাও ভালো দেখতে চাই।
পিডিএসও/ জিজাক









































