বন্যার্তদের ঈদ আনন্দ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২০, ১০:৩৬ | আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২০, ১১:০২

তামান্না ই জান্নাত লিমা

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। এই দিনে মুসলমানদের আনন্দের সীমা থাকে না। কিন্তু কিছু পরিস্থিতি সেই আনন্দের ঈদকে দুঃখে পরিণত করে। ঠিক তেমনি একটি পরিস্থিতি নিয়ে এসেছে এবারের বন্যা। 

দেশের ৩১টি জেলার ৫০ লক্ষাধিক মানুষ বন্যায় ঘরবন্দি হয়ে দিন যাপন করছেন। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের ঘরে ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা, তিন বেলার খাবারই জোটেনি। এমনকি তারা ঘর থেকেই বের হতে পারছে না। অনেক বাবা পারেননি সন্তানের মুখে ঈদের আনন্দ ফুটিয়ে তুলতে, পারেননি দিতে ভাল খাবার, নতুন জামা। 

একদিকে করোনা মহামারিতে মানুষ ঘরবন্দি, অন্যদিকে এই দুর্যোগ। এ যেন কাটা ঘায়ে লবনের ছিটার মতো। ওই সকল অঞ্চলের মানুষের জীবিকা নির্বাহের সকল পথ বন্ধ। তাই দুমুঠো খাবারের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ত্রাণের জন্য। অনেক মানুষের নিজগৃহও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আবার অনেকে পরিবারের সদস্য ও গবাদি পশু মিলে এক ঘরে অবস্থান করছে। সবমিলিয়ে ঈদের আনন্দ তাদের কাছে ক্ষীয়মান।

ঈদুল আজহা মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে পালিত হয়। মুসলমানরা পশু কোরবানির মাধ্যমে সন্তুষ্টি অর্জন করে। কিন্তু এই বানভাসি মানুষেরা যেখানে বেঁচে থাকার জন্য সর্বক্ষণ লড়ায় করে চলেছে, সেখানে কোরবানির কথা ভাবা বিলাসিতা মাত্র। ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার বাইরে বাস্তবিক জীবন যে কতটা অসহায়, তা এই দুর্যোগ জানিয়ে দিলো। 

দূর থেকে দেখে আমরা কষ্ট পাচ্ছি আর সমবেদনা জানাচ্ছি। কিছু মানবিক মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকারি বেসরকারি নানা ত্রাণ তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে। আর স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করছে। তবু এই অর্ধাহার, অনাহারে থাকা বানভাসি মানুষের কষ্টের সীমা নাই। নাই ঈদ আনন্দের ছিটাটুকুও। তাদের আছে শুধু সবকিছু হারানোর হাহাকার। 

আমাদের এক হয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। নিজেদের সাধ্যমতো বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিতে হবে। সব কিছু স্বাভাবিক হলে পরবর্তী বছর ঈদ সবার মাঝে আনন্দ বয়ে নিয়ে আসবে। সবার মুখে ফুটে উঠবে খুশি, এই প্রত্যাশা।

লেখক : শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

পিডিএসও/হেলাল