reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

‘জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২০’ বাতিলের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র সমাবেশ

‘জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২০’ বাতিলের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাষ্কর্যের সামনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি মাসুদ রানা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ ও অর্থ সম্পাদক প্রগতি বর্মণ তমা।

বক্তরা বলেন, সম্প্রতি ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২০’ অনুমোদিত হয়েছে। যা কার্যকর হবে ২০২৩ সাল থেকে। সরকার একে ‘যুগোপযোগী-কার্যকর’ পদক্ষেপ বলছে। কিন্তু বাস্তবে এ হলো শাসক শ্রেণির রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি পদক্ষেপ। শাসক শ্রেণি চায় বাংলাদেশের শ্রম শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পুঁজিপতিদের মুনাফা তৈরি করতে। সামনের দিনে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে একদল দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশের শাসককরা সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে চায়। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সে অনুযায়ী গড়ে তোলার জন্যই এই শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করেছে। মানুষকে শিক্ষা দেয়া তার মূল লক্ষ্য নয়। এই শিক্ষাক্রমে এমন সব নীতি নেয়া হয়েছে যা শিক্ষা ব্যবস্থায় ভয়ংকর বিপর্যয় নামিয়ে আনবে। পরীক্ষার ক্ষেত্রে আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন। প্রাথমিকে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত থাকবে না কোনো পরীক্ষা। আবার শিখনকালীন মূল্যায়নের নামে শিক্ষকদের হাতে বিভিন্ন ক্লাসে বিভিন্ন রকম মার্কস দেয়া হয়েছে। এই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ‘ধারাবাহিক মূল্যায়ন’, ‘অংশীজন মূল্যায়ন’ ‘সতীর্থ মূল্যায়ন’ ‘টেকনোলজি ব্যবহার’ ইত্যাদির উপর জোর দেয়া হবে। বিশ্বব্যাপী ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ৫ঃ১ হতে হবে এটা স্বীকৃত। কিন্তু বাংলাদেশে প্রাথমিকে সরকার চেষ্টা করছে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ৩০ঃ১ করতে। মাধ্যমিকে এ অনুপাত ৪২ঃ১ জন। আবার প্রশিক্ষণের দিক থেকে বাংলাদেশের শিক্ষকরা দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও  বাংলাদেশের শিক্ষার মান ২.৮ শতাংশ মাত্র।

এ অবস্থায় ধারাবাহিক মূল্যায়ন বা শিখনকালীন মূল্যায়ন কার্যকর হবে না। শিক্ষকদেরও পর্যাপ্ত ট্রেনিং নেই। ফলে গাইড বই ও কোচিং নির্ভরতা বাড়বে। আবার এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষাক্ষেত্রে শুরু থেকেই দুর্নীতির সুযোগ থেকে যাবে। অংশীজন কারা হবেন? বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, আমলা, মন্ত্রীরাই অংশীজন হবেন। তারা তাদের প্রভাব খাটিয়ে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া প্রভাবিত করবে। শিক্ষকদের একটা অংশও নানা কারণে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তে পারেন। তৈরি হবে স্বজন পোষণের সম্ভাবনা। 

দীর্ঘদিন ধরে পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চলছে। সরকার বিভিন্ন সময় এই পরীক্ষাগুলি বাতিলের কথা বললেও বাতিল করছে না। বরং শিক্ষাক্রমের মধ্যেও এ নিয়ে কোন স্পষ্ট ঘোষণা নেই। কেউ কেউ বলছেন পিইসি-জেএসসি সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। তাই এটা সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই অবিলম্বে এই পরীক্ষা দুটি বাতিল করা হোক। এদিকে শিক্ষাক্রম অনুযায়ী এসএসসি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে নেয়া হবে পরপর তিনটি পাবলিক পরীক্ষা। পরপর তিনটি পাবলিক পরীক্ষা ছাত্রদের জন্য হবে চাপের। বাস্তবে এ পরীক্ষাগুলো হবে উচ্চ শিক্ষায় প্রবেশের পূর্বে শিক্ষার্থীদের ছাকুনি দিয়ে শিক্ষাঙ্গন থেকে বিদায় করা।

শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বিজ্ঞান শিক্ষা সংকুচিত হবে। কিন্তু বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে প্রি-ভকেশনাল শিক্ষা। আবার মনে রাখতে হবে, এটা ওয়ান চ্যানেল অফ এডুকেশন নয়। ওয়ান চ্যানেল অফ এডুকেশন -এ শিক্ষার বিভিন্ন ধারা ও বৈষম্য দূর করে অভিন্ন পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচিতে পড়ানো হয়। যেখানে শিক্ষার্থীদের জীবন-জগৎ সম্পর্কে সামগ্রিক শিক্ষা দেয়া হয়। বাস্তবে নতুন পাঠক্রমে শিক্ষায় বিভিন্ন ধারা ও বৈষম্য বজায় রেখে কিছু খণ্ডিত বিষয়ে ধারণা দেয়া হবে মাত্র।

আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো জাতীয় শিক্ষাক্রমের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল গৃহিত হলো এতে নেই শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ছাত্র সংগঠনসহ অন্যান্যদের অংশগ্রহণ। এই কাজটি করা হয়েছে কতিপয় আমলা ও সরকারের বিশ্বস্ত বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে। তাই এতে স্থান পায়নি মানুষের স্বার্থ, স্থান পেয়েছে সরকারের এজেন্ডা ও প্রয়োজন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সামগ্রিক দিক থেকে বিবেচনা করে আমরা মনে করি জাতীয় শিক্ষাক্রম শিক্ষা ক্ষেত্রে ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই বক্তারা এই শিক্ষাক্রম অবিলম্বে বাতিল করার আন্দোলনে সকলকে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।

 

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২০,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট,সমাবেশ
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close