বদরুল আলম মজুমদার

  ০৯ জানুয়ারি, ২০২০

২ সিটিতে লাগবে ৪৩ হাজার

পোলিং এজেন্টই এখন বিএনপির চ্যালেঞ্জ

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে বিএনপিকে প্রায় ৪৩ হাজার পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে। বর্তমান সময়ে দলটিকে নেতারা জনপ্রিয় মনে করলেও এত বিশাল পরিমাণ পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে হিমশিম খেতেই হবে বিএনপি প্রার্থীদের।

নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে একের অধিক কাউন্সিলর প্রার্থী দল থেকে নির্বাচন করতে চাইলেও, কাজের সময় পোলিং এজেন্ট দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন না সব প্রার্থী। তারপরও দলীয় বিভিন্ন চাপে কিছু আনাড়ি ও অজনপ্রিয় প্রার্থীকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়ে থাকে। ফলে এসব প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে কোনো প্রভাব তো রাখতে পারেনই না, উল্টো দলের মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটান। এ ছাড়া বিএনপির প্রায় ডজনের ওপর কাউন্সিলর প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করে মাঠ ছেড়ে দিতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

যদিও বিএনপির দুই সিটি নির্বাচনের সমন্বয়ে থাকা নেতারা বলছেন, বিএনপির মতো দলের এজেন্ট সংকট হওয়ার কথা নয়। তবে সম্প্রতি কিছু নির্বাচনে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। আমাদের নিযুক্ত এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। এর বাইরে কেন্দ্রে যাতে এজেন্ট যেতে না পারেন, তাই আগে থেকেই পুলিশ ও সরকারদলীয় প্রার্থীরা কর্মীদের বাড়িঘরে গিয়ে ভয়ভীতি দেখান। আসলে পরিবেশটা যদি এমন থাকে, তাহলে এটাকে নির্বাচনী পরিবেশ বলা যায় না। এবারও যে এর ব্যতিক্রম হবে না, তা আমরা এখনই বুঝতে পারছি। তারপরও আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমরা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চাই, যদি নির্বাচন করার মতো পরিবেশ থাকে।

তারা আরো বলছেন, এবার পুরো ঢাকায় ইবিএম মেশিনের মাধ্যমে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এখানে এজেন্ট না থাকলে কোনো কিছুতেই রেজাল্ট আমাদের পক্ষে আসবে না। এ জন্য দলীয় প্রার্থীদের নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করছি সবকিছু ঠিকমতো গোছাতে পারব।

এমন বাস্তবতায় এবারের নির্বাচনে পোলিং এজেন্ট নিয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে হাইকমান্ড। ভোটকেন্দ্রে যেকোনো ধরনের কারচুপি ও অনিয়ম ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেন—এমন যোগ্যতাসম্পন্ন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র বলছে, সব ধরনের আশঙ্কার কথা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার দুই সিটিতে প্রায় ৪৫ হাজার পোলিং এজেন্ট নিয়োগের সম্ভাব্য তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে হয়রানি করার সুযোগ না পায়, সে জন্য তালিকা সংগ্রহে গোপনীয়তা অবলম্বন করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কিংবা গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা আছে, এমন নেতাকর্মীকে পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে না। দুই সিটির পোলিং এজেন্টের তালিকায় বিকল্প টিমও স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে।

সম্ভাব্য তালিকা চূড়ান্ত করে তাদের সবাইকে ইভিএমের টেকনিক্যাল বিষয়সহ ভোট কারচুপি প্রতিরোধ করার বিভিন্ন কলাকৌশল শেখাতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তার ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও করা হবে লিখিত আবেদন।

ঢাকা উত্তর সিটিতে ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১৮টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড রয়েছে। সেখানে থাকবে ১ হাজার ৩১৮টি ভোটকেন্দ্রে ৭ হাজার ৮৪৬টি ভোটকক্ষ। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ২৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১ হাজার ১৫০টি ভোটকেন্দ্রে ৬ হাজার ৫৮৮টি ভোটকক্ষ থাকবে।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং উত্তর সিটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, নির্বাচনের দিন যাতে কেউ ভোটকেন্দ্রে কারচুপি বা অনিয়ম করতে না পারে, এ বিষয়টি এখনই আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমনকি ক্ষমতাসীনদের বাধার কারণে অনেক কেন্দ্রেই আমাদের এজেন্ট ঢুকতে পারেনি। কোথাও কোথাও আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতাও ছিল। অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার পোলিং এজেন্ট নিয়োগে আমরা বেশ গুরুত্ব দিয়েছি। যারাই পোলিং এজেন্ট হবেন, তাদের অবশ্যই কেন্দ্রে যেতে হবে। একমাত্র গ্রেফতার ছাড়া ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বা আসতে দেয়নি—এমন কোনো অজুহাত এবার বরদাশত করা হবে না।

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার শঙ্কা থাকার পরও পোলিং এজেন্ট নিয়োগ নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হবে বলে মনে করি না। কারণ রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী রয়েছেন। সংশয় হচ্ছে ক্ষমতাসীন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ঠিকমতো কাজ করতে দেবে কি না।

ঢাকার দুই সিটিতে ভোটকক্ষের সংখ্যা ১৪ হাজার ৪৩৪টি। প্রতি কক্ষে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে একজন করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হবে। সব মিলে দুই সিটিতে ৪৩ হাজার ৩৩২ জন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে।

এত বিপুলসংখ্যক সাহসী এবং নিবেদিত স্থানীয় নেতাকর্মী মিলবে কি না, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে দলে। কারণ সক্রিয় নেতাকর্মীদের অনেকের বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক মামলা। এমন পরিস্থিতিতে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বা গ্রেফতারের আশঙ্কা রয়েছে, তাদের পোলিং এজেন্ট নিয়োগ না দেওয়ার পক্ষে দলটির নীতিনির্ধারকরা।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ভোট যত ঘনিয়ে আসবে, সরকার নানাভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করবে বলে আমাদের আশঙ্কা। ইতোমধ্যে এর নমুনা শুরু হয়েছে। মিথ্যা মামলায় আরো অনেককে গ্রেফতার ও ভয়ভীতি দেখানো হতে পারে। তারপরও চেষ্টা থাকবে এলাকায় যারা পরিচিত এবং প্রভাবশালী, তাদের পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়ার। ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। এ ছাড়া চূড়ান্ত তালিকা করার পর তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

পিডিএসও/হেলাল

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
চ্যালেঞ্জ,পোলিং এজেন্ট,বিএনপি
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়