শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

শ্রীপুরে শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিকরা।

তাদের অভিযোগ, অসুস্থ হয়ে পড়ার পর যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার শত শত শ্রমিক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে তারা মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক ও মাওনা-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। এতে সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।

শ্রমিকদের দাবি, কারখানার শ্রমিক লিজা আক্তার বুধবার রাত প্রায় ১২টার দিকে কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তারা সড়কে নামেন।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা বলেন, আমাদের সহকর্মী অসুস্থ হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো তার জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক মুক্তা বলেন, আমাদের সহকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সে বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। কিন্তু দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

আরেক শ্রমিক সুমাইয়া আক্তার বলেন, কারখানায় কাজ করার সময় কেউ অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। লিজার মৃত্যুর ঘটনায় আমরা মর্মাহত। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য জবাবদিহি প্রয়োজন।আমরা কোনো অরাজকতা করতে চাই না। শুধু জানতে চাই, কেন একজন অসুস্থ শ্রমিক সময়মতো চিকিৎসা পেল না। ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার সাহা বলেন, শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।আমরা আগামী শনিবার সকালে শ্রমিক এবং কারখানার কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করব।

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন। দুপুরের দিকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

কারখানার ম্যানেজিং ডিরেক্টর বদিউজ্জামান বলেন, একজন শ্রমিকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক।এই ঘটনায় কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহকারী পুলিশ সুপার কালিয়াকৈর সার্কেল শফিকুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়