বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস

দক্ষিণ কোরিয়াকে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ১-০ গোলে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে হতাশাজনক শুরুর পর বাফানা বাফানাদের এভাবে ফিরে আসাটা অনেকটাই রূপকথার গল্পের মতো।
২০১০ সালে স্বাগতিক হওয়ার পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়ে শুরুটা তাদের ভাল হয়নি। কিন্তু গ্রুপ-এ’র দ্বিতীয় ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের সাথে লড়াই করে তারা এক পয়েন্ট আদায় করে নেয়। গতকাল দ্বিতীয়ার্ধে থাপেলো মাসেকোর গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে পরাজিত করার পাশাপাশি মেক্সিকোর পর গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানও দখল করে বাফনারা।
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস বলেছেন, দলের এই অর্জন ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। গোলের পর ম্যাচ শেষের আগপর্যন্ত আমাদের সকলের কীভাবে কেটেছে, তা বলে বোঝানো যাবে না। আশা করছিলাম যত দ্রুত সম্ভব যেন ম্যাচটা শেষ হয়। এখন আমরা দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবো। এটা ঐতিহাসিক। আমি দারুণ খুশি। গত পাঁচ বছর ধরে আমরা একসাথে কাজ করছি, যা সত্যিই অসাধারণ।
দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ হং মায়াং-বো এশিয়ান অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত অধিনায়ক সন হেয়াং-মিনকে বদলি বেঞ্চে রেখে শুরুর একাদশ সাজিয়েছিলেন। যা অনেককেই বিস্মিত করেছে। এশিয়ান পরাশক্তিরা ম্যাচটা দারুণভাবে শুরু করেছিল। অস্থায়ী অধিনায়ক কিম মিন-জায়ের শক্তিশালী হেড গোললাইনের ওপর থেকে ব্লক করেন অব্রে মোডিবা।
দক্ষিণ আফ্রিকা দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আক্রমণাত্মক কৌশলে খেলতে থাকলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিলা বাফানারা। ৩০ মিনিটে থালেন্টে এমবাথার শট কোনোমতে রক্ষা করেন দক্ষিণ কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম সেয়াং-গিউ। পোস্টের খুব কাছে থেকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি মাগোপা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামেন সন। এ সময় কোচ হং তিনটি পরিবর্তন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ফরোয়ার্ড ওহ হায়েয়ন-গিউ প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসকে পরীক্ষায় ফেলেন। ৬৩ মিনিটে অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে। সেপাং মোরেমির ক্রসে মাসেকোর গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকানরা। ম্যাচের শেষ ভাগে দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচে ফিরে আসার জোড় চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি।
এই পরাজয়ে দক্ষিণ কোরিয়ারও অবশ্য স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়নি। সেরা তৃতীয় দল হিসেবে তাদের সামনে এখনও নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা টিকে আছে। আগামী ২৮ জুন লস এ্যাঞ্জেলসে শেষ ৩২-এ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ সহ-আয়োজক কানাডা।









































