reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১ ঘণ্টা আগে

গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটে ব্রাজিল

মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্রয়ে হেক্সা অভিযান শুরুর পর হয়েছিল অনেক সমালোচনা। ব্রাজিলের সামর্থ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে। কার্লো আনচেলত্তির দল বেশি দূর যেতে পারবে না, এরকম কথাও বলেছেন নিন্দুকেরা। তবে সব সমালোচনার জবাব দিয়ে সি গ্রুপ সেরা হয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রেখেছে ব্রাজিল।

মিয়ামিতে নেইমার জুনিয়রের ফেরার ম্যাচে ঝড় বইয়ে দিয়ে ব্রাজিলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। টানা তিন ম্যাচেই গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। তার জোড়া গোলের পাশাপাশি এক গোল করে জয়ে অবদান রেখেছেন আগের ম্যাচে জোড়া গোল করা মাথেস কুনিয়াও।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনা কিপার অ্যাঙ্গাস গানের পাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। রাফিনিয়ার জায়গায় খেলতে নামা রায়ান তার শট আটকে দিলে বল চলে যাচ্ছিল গানের কাছে। তবে চতুর ভিনিসিয়ুস সেটা আয়ত্তে নিয়েই আলতো টোকায় ফাঁকা পোস্টে জড়িয়ে দেন।

২৪ মিনিটে ব্রাজিল এগিয়ে গিয়েছিল ২-০ গোলে। বিশ্বকাপে চতুর্থ গোলের দেখা পেয়ে গিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে ভিএআর-এ সেই গোল বাতিল হয়। রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্কটল্যান্ড ডিফেন্ডার জ্যাক হেনরির কাছ থেকে অন্যায়ভাবে কেড়ে নিয়ে গোল করেছিলেন ভিনি। তবে প্রথমার্ধের আর হতাশ হতে হয়নি তাকে। যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমাইরাসের ক্রসে ভিনিসিয়ুসের হেড জাল খুঁজে নিলে ব্রাজিল এগিয়ে যায় আরও। বিশ্বকাপে চতুর্থ গোলের দেখা পান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

বিরতি থেকে ফিরে কুনিয়া ব্রাজিলকে আরও এগিয়ে নেন। ৬০ মিনিটে গিমাইরাসের আড়াআড়ি পাসে কুনিয়ার কোনাকুনি শট পোস্টে জড়ায়। এই বিশ্বকাপে ব্রাজিল ফরোয়ার্ড পান তৃতীয় গোলের দেখা। হাইতির বিপক্ষে আগের ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন ম্যানইউ ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ শুরুর পর থেকেই সবার অপেক্ষা ছিল নেইমারকে নিয়ে। ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা বেঞ্চ থেকে কখন নামবেন মাঠে? সে অপেক্ষা ঘুঁচে যায় ৭৬ মিনিটে। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামেন নেইমার। কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে আসেন আগের ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে শেষ খেলেছিলেন নেইমার। সেই ম্যাচে হাঁটুর ইনজুরি দীর্ঘ সময়ের জন্য ছিটকে দেয় তাকে।

নেইমার নামার পর অবশ্য আর গোল পায়নি ব্রাজিল। পুরো ম্যাচে স্কটল্যান্ডও গোল পেতে পারত। তবে ব্রাজিল কিপার আলিসনের বীরত্বে ব্রাজিল গোল হজম না করেই মাঠ ছাড়ে।

বিশ্বকাপে তিন গ্রুপ ম্যাচেই গোল করা ব্রাজিলিয়ান তারকাদের এলিট তালিকায় নাম লিখিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। এর আগে ১৯৭০ বিশ্বকাপে জার্জিনিও, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রোমারিও ও ২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদো নাজারিও এবং রিভালদো এই কীর্তি গড়েছিলেন।

মজার ব্যপার হলো, সেই তিন বিশ্বকাপই জিতেছিল ব্রাজিল! ভিনিসিয়ুস মরক্কো, হাইতির পর জোড়া গোল করলেন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। তবে কী এবারও শিরোপা আসবে ব্রাজিলের ঘরে?

এদিকে সি গ্রুপের অপর ম্যাচে আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল মরক্কো ও হাইতি। বারবার রং বদলানো ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে জিতে নকআউটের টিকিট কেটেছে মরক্কো।

অথচ ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট ছিল রোমাঞ্চে ঠাসা! দুবার হাইতি এগিয়ে গেলেও, প্রতিবারই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মরক্কো। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও, হাইতি তাদের সেরা ফুটবল খেলছে প্রথমার্ধে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কোর সামনে আর দাঁড়াতে পারেনি নবাগতরা। আরও দুই গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয় মরক্কো।

সি গ্রুপের ম্যাচ শেষে ৩ ম্যাচে সমান সাত পয়েন্ট ব্রাজিল ও মরক্কোর। তবে গোল গড়ে এগিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে রাউন্ড অব ৩২-তে জায়গা পেয়েছে আনচেলোত্তির দল।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়