মাঠের মহানাট্য থেকে রূপালি পর্দায় যেসব ফুটবল তারকারা

ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের আবেগ। রুপালি পর্দায় এই উন্মাদনা, খেলোয়াড়দের জীবনসংগ্রাম এবং মাঠের ভেতরের রাজনীতি নিয়ে দারুণ সব সিনেমা তৈরি হয়েছে।
ফুটবল ইতিহাসের এমন আট মহাতারকার রূপালি পর্দার গল্প নিচে তুলে ধরা হলো:
পেলে: বার্থ অব আ লিজেন্ড (২০১৬): এটি মূলত পেলের অরিজিন স্টোরি। ব্রাজিলের বস্তি থেকে উঠে এসে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ জয় করা পর্যন্ত তার শৈশব ও পারিবারিক সংগ্রামকে হলিউডি কায়দায় রূপালি পর্দায় আনা হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ডলার বাজেটের এই সিনেমাটি বক্স অফিসে সফল না হলেও পেলের ভক্তদের আবেগ ছুঁয়ে গেছে।
পেলে (২০২১): নেটফ্লিক্সের এই তথ্যচিত্রে ১৯৫৮ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে পেলের ৩টি বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের 'জাতীয় নায়ক' হয়ে ওঠার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমাদৃত হয়।
নেইমার: ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে তৈরি ৩ পর্বের এই ডকুসিরিজটি। সান্তোসে উত্থান, বার্সেলোনা ও পিএসজির বর্ণিল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি মাঠের বাইরের বিতর্ক, পার্টি লাইফ এবং তার বিশাল ‘মার্কেটিং সাম্রাজ্য’র ভেতরের গল্প নিখুঁতভাবে দেখিয়েছে নেটফ্লিক্স। এতে মেসি, এমবাপ্পে ও বেকহ্যামের বিশেষ সাক্ষাৎকার রয়েছে।
দিয়েগো ম্যারাডোনা (২০১৯): স্পোর্টস ডকুমেন্টারির ইতিহাসে এটিকে অন্যতম সেরা মাস্টারপিস ধরা হয়। অস্কারজয়ী নির্মাতা আসিফ কাপাডিয়া প্রায় ৫০০ ঘণ্টার অপ্রকাশিত ফুটেজ ব্যবহার করে এটি নির্মাণ করেন। ১৯৮৬-র বিশ্বকাপ জয়, ইতালির ক্লাব নাপোলিকে অবিশ্বাস্য সাফল্য এনে দেওয়া, ফুটবল ঈশ্বরের খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছানো এবং এর সমান্তরালে মাদকাসক্তি, মাফিয়া সংযোগ ও ব্যক্তিজীবনের অন্ধকার দিক—সবকিছুই এতে নির্মম সততার সাথে তুলে ধরা হয়েছে।
লিওনেল মেসি (২০১৪): স্প্যানিশ পরিচালক আলেক্স দে লা ইগলেসিয়ার এই ডকুড্রামায় রোজারিওর সেই ছোট্ট ছেলেটির গ্রোথ হরমোনজনিত সমস্যা, বার্সেলোনায় পাড়ি জমানো এবং কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্প পুনর্নির্মাণ ও আর্কাইভ ফুটেজের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। এতে অংশ নেন জোহান ক্রুইফ ও ইনিয়েস্তার মতো তারকারা।
মেসির বিশ্বকাপ: দ্য রাইজ অব আ লিজেন্ড (২০২৪): অ্যাপল টিভি প্লাসের ৪ পর্বের এই ডকুসিরিজটি মূলত মেসির ৫টি বিশ্বকাপের দীর্ঘ ও ট্র্যাজিক পথচলা এবং অবশেষে ২০২২ সালে কাতারে এসে তার আজন্ম স্বপ্নপূরণের এক মহাকাব্যিক দলিল।
বেকহ্যাম (২০২৩) : নেটফ্লিক্সের ইতিহাসের অন্যতম সফল এই ডকুসিরিজটিতে ডেভিড বেকহ্যামের জীবনের খেরোখাতা খোলা হয়েছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তার অবিশ্বাস্য উত্থান, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেই কুখ্যাত লাল কার্ডের পর পুরো ইংল্যান্ডের ঘৃণা কুড়ানো, মিডিয়ার তীব্র চাপ এবং ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের সাথে তার হাই-প্রোফাইল প্রেমের গল্প এতে স্থান পেয়েছে। প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের সিরিজটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ১২.৪ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছিল।
ওয়েন রুনি (২০২২): অ্যামাজন প্রাইমের এই ফিল্মটিতে এভারটন থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি হওয়া এবং জাতীয় দলের অতি-প্রত্যাশার চাপকে দেখানো হয়েছে।
রুনি: দ্য ম্যান বিহাইন্ড দ্য গোলস (২০১৫): এই প্রামাণ্যচিত্রে রুনিকে মাঠের বাইরে একজন সাধারণ মানুষ, স্বামী ও পিতা হিসেবে আবিষ্কার করা হয়েছে, যেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জ্লাতানের মতো তারকারা রুনির বন্দনা করেছেন।
জিদান: আ টোয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি পোর্ট্রেট (২০০৬): ফুটবল নিয়ে নির্মিত সবচেয়ে চাক্ষুষ ও ব্যতিক্রমী সিনেমা এটি। একটি রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ চলাকালীন পুরো সময়জুড়ে ১৭টি হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা শুধু ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ওপর ফোকাস করে রেখেছিল। তার পায়ের জাদু, মাঠের হাঁটাচলা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দকে ধরে রাখার এই শৈল্পিক প্রচেষ্টা সিনেমা সমালোচকদের ভীষণ প্রশংসা কুড়ায়।
রোনালদো (২০১৫): পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রিয়াল মাদ্রিদের স্বর্ণযুগে টানা ১৪ মাস তার ব্যক্তিগত জীবনের পিছু নিয়ে এটি ধারণ করা হয়। মাঠের অবিশ্বাস্য গোলমেশিন রোনালদোর আড়ালে থাকা একজন স্নেহময় বাবা (ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রের সাথে রসায়ন) ও দায়িত্বশীল ছেলেকে (মা মারিয়ার সাথে সম্পর্ক) খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন ভক্তরা।









































