পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি

  ২২ জুন, ২০২৬

পুঠিয়ায় বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, আসামি গ্রেপ্তার

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভায় আম কুড়ানোর কথা বলে এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৬) পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রফিক মিস্ত্রি (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত ২০ জুন (শনিবার) দুপুরে পুঠিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঝলমলিয়া সরকারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত রফিক মিস্ত্রি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে স্থানীয় ‘ভাই ভাই ট্রাভেলস’-এর মালিক মুকুলের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। ঘটনার পর গত রাতে অভিযুক্ত রফিক মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করেছে পুঠিয়া থানা-পুলিশ।

ইশারায় নির্যাতনের বিবরণ দিল প্রতিবন্ধী কিশোরী : ভুক্তভোগী কিশোরীটি জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। ঘটনার পর প্রতিবেদকের সামনে তার মা যখন ইশারায় জানতে চান কী ঘটেছিল, তখন কিশোরীটির চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। সে ইশারায় এবং আধো-বোলে উপস্থিত সবার সামনে সেই ভয়াবহ নির্যাতনের বিবরণ দেয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি তার সঙ্গে কী করেছে, তা বোঝানোর পাশাপাশি পেটের প্রচণ্ড ব্যথায় বারবার কেঁদে উঠছিল সে। প্রতিবন্ধী কিশোরীটির এই আকুতি ও কান্নায় উপস্থিত প্রতিবেশীরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা জানান, ঘটনার দিন দুপুরে বাড়িতে প্রায় ২০ জন আত্মীয় আসায় তিনি রান্নাবান্নায় ব্যস্ত ছিলেন। বাড়ির বাইরে রোদে দেওয়া ভুট্টা পাহারা দিচ্ছিল তার প্রতিবন্ধী মেয়েটি। এ সময় প্রতিবেশী মুকুলের বাড়ির গৃহকর্মী রফিক মিস্ত্রি তাকে আম কুড়ানোর লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর বাড়ির পাশের ওয়াদ আলীর পাটক্ষেতের ভেতরে নিয়ে কিশোরীটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

অভিযুক্তের অতীত ও তার বক্তব্য : অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত রফিক মিস্ত্রি ৫ সন্তানের জনক। তার চার স্ত্রীর মধ্যে চারিত্রিক সমস্যার কারণে ৩ জনই তাকে তালাক দিয়ে চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি এক স্ত্রীকে নিয়ে ওই এলাকাতেই থাকেন। এর আগেও তিনি এলাকায় নারীদের উত্ত্যক্ত করা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, তবে লোকলজ্জার ভয়ে সেসব বিষয় ধামাচাপা পড়ে যায়।

অবশ্য ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে রফিক মিস্ত্রি দাবি করেন, "আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত নই। মেয়েটি আমার নাতনির মতো। তাকে আম কুড়াতে নিয়ে গিয়েছিলাম। এক বাগানে আম না পেয়ে পাটক্ষেতের ভেতর দিয়ে অন্য আরেকটি আম বাগানে নিয়ে গিয়েছিলাম মাত্র।"

আইনি পদক্ষেপ : এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, পুঠিয়া থানায় এ ঘটনায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হবে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

পিডিএস/এমএইউ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়