জবি প্রতিনিধি

  ১ ঘণ্টা আগে

জবিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উদযাপন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের আয়োজনে ‘ জলবায়ু পরিবর্তনে আজকের পদক্ষেপ আগামী নিরাপত্তা’ প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি এবং একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের আয়োজনে র‍্যালিটি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। পরবর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনা সভা আয়োজিত হয়।

সভাটি সঞ্চালনা করেন জবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দিন।

​বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জবির কোষাধ্যক্ষ ড. সাবিনা শারমিন ও জবির লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম।

সভার মূল উপস্থাপক ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. মনজুরুল হাসান। এছাড়াও আলোচনা সভার মূখ্য ​আলোচকবৃন্দ ছিলেন মো. জিয়াউল হক হাওলাদার জেনারেল ম্যানেজার , পর্যটন কর্পোরেশন এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মল্লিক আকরাম হোসেন। সভাটির সভাপতিত্ব করেন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দা ইসরাত নাজিয়া ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভগের অধ্যাপক ড. হাছিনা আক্তার।

আলোচনা সভার মূখ্য বক্তা জাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ​ড. এম. মনজুরুল হাসান বলেন, " আমাদের মনে রাখতে হবে, সঠিক তথ্য ও সুনির্দিষ্ট পরিবেশগত বিশ্লেষণ ছাড়া শুধু কাগজে-কলমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) নির্ধারণ কিংবা অপরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো কোনো সমাধান আনবে না। জলবায়ুর আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে মাথায় রেখেই আমাদের নিজস্ব বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় নীতিমালা তৈরি করতে হবে।"

তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, ​"আমরা যত উন্নত হচ্ছি, আমাদের বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ তত বাড়ছে এবং বর্জ্য কমানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের অতিব্যবহার আমাদের পরিবেশকে বিপন্ন করছে। তাই পরিবেশ দূষণ মুক্ত রাখতে শুধু ইউজার বা সাধারণ মানুষের ওপর আইন চাপিয়ে দিলেই হবে না, বরং যারা নিষিদ্ধ পলিথিন বা প্লাস্টিক উৎপাদন করছে, সেই প্রডিউসারদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।"

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মল্লিক আকরাম হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, " উন্নত বিশ্ব প্রায়ই নতুন নতুন মডেল বা প্রযুক্তি নিয়ে এসে আমাদের মতো থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রির ওপর চাপিয়ে দেয়, কিন্তু তারা নিজেরা তাদের আরাম-আয়েশের জীবনযাত্রা ছাড়তে চায় না। এই পরিস্থিতিতে কেবল উন্নত দেশের দিকে তাকিয়ে না থেকে, আমাদের নিজেদের আচরণ ও অভ্যাসের পরিবর্তন করতে হবে।

" জবির লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, " বর্তমানে আমাদের পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো 'মাইক্রোপ্লাস্টিক'। দেশের এমন কোনো মাছ নেই যার শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা পাওয়া যাচ্ছে না। এই প্লাস্টিকযুক্ত মাছ ও খাবার খাওয়ার ফলে মানুষের শরীরে তা প্রবেশ করছে এবং লিভার ড্যামেজ, কিডনি বিকল ও ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক রোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়িয়ে দিচ্ছে। "

জবির কোষাধ্যক্ষ ড. সাবিনা শারমিন জানান, " আমাদের পরিবেশগত সুরক্ষা নিয়ে ভাবতে হবে, যা জলবায়ু সংকটে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন ও তাদের রক্ষার কথা বলে। ভূগোলবিদদের শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশ নয়, সামাজিক পরিবেশ নিয়েও ভাবতে হবে।"

আলোচনা সভার প্রধাণ অতিথি উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দিন তার বক্তব্যে জানান, " বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সেমিনারে 'জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামী নিরাপত্তা' বিষয়ের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তবে জলবায়ু সংকট নিরসনের জন্য আসলে প্রকৃতির আগে মানুষের মন-মানসিকতা ও আচরণের পরিবর্তন প্রয়োজন। আমরা মুখে পরিবেশের কথা বললেও, অনেকেই সচেতন নই; এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে বা ক্যাম্পাসের ভেতরেও অনেকে ডাস্টবিন ব্যবহার না করে যত্রতত্র ময়লা ফেলছেন। "

​তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, "আমাদের সচেতনতার অভাবই বজ্রপাত বৃদ্ধি বা পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার মতো বিপর্যয় ডেকে আনছে। তাই হতাশ না হয়ে আমাদের নিজেদেরই প্রথমে শুদ্ধ হতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে শপথ করি যে, পরিবেশের ক্ষতি বা দূষণ হয় এমন কোনো কাজ আমরা নিজেরা করব না এবং অন্য কাউকেও তা করতে দেব না। পরিবেশের সুরক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগকে শুধু পরিবেশ দিবসে নয়, বছরের ৩৬৫ দিনই এই সচেতনতা বজায় রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।"

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দা ইসরাত নাজিয়া বলেন, " পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে এবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছবি আঁকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে শিশুরা 'আমার পরিবেশ, পরিবেশ দূষণ' বিষয়ের ওপর তাদের সৃজনশীল ভাবনা ফুটিয়ে তুলেছে। এছাড়া স্কুলগুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তা বলেন, মূল প্রবন্ধকার পরিবেশের যে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছেন, তা থেকে আমাদের নিজেদের আচরণগত পরিবর্তন করতে হবে। "

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ও ঢাকার বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত চিত্রান্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরষ্কার প্রদান করা হয়।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়