এস এম হোসেন রানা, ইসলামপুর (জামালপুর)
নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
ভঙ্গুর ভবন ও সীমানা প্রাচীরহীন উত্তর ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কিসামতজাল্লা (হরিসভা) এলাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত উত্তর ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় নতুন ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন মহল। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়টিতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন, সীমানা প্রাচীর, প্রধান ফটক (গেট) এবং উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২০৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়টির চারপাশে কোনো সীমানা প্রাচীর ও প্রধান ফটক না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া সীমানা প্রাচীর না থাকায় নারী শিক্ষকদের পক্ষে বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা তদারকি করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। বিদ্যালয়টি ব্যস্ত সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চলাচলেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম বলেন, "শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমানে বিদ্যমান ৭টি শিক্ষক পদের পাশাপাশি আরও ২ থেকে ৩টি পদের সৃষ্টি করা জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে দ্রুত সীমানা প্রাচীর ও প্রধান ফটক নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।"
তিনি আরও বলেন, "বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।"
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবির আহম্মেদ বিপুল বলেন, পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বার্থে এখানে দ্রুত উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন জানান, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার কথা জেনে তারা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ে অবহিত করেছেন। বিদ্যালয়টির জন্য একটি নতুন ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইন বলেন, বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, সীমানা প্রাচীর, প্রধান গেট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। এসব উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত ও গতিশীল হবে।
পিডিএস/এমএইউ









































