মিজানুর রহমান, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট)
অসময়ের বৃষ্টিতে আলু ও সরিষা ক্ষেত নিয়ে বিপাকে কৃষক

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে অসময়ের বৃষ্টিতে আলু ও সরিষা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা।
ক্ষেতলাল কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়নে ৮ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু এবং ১ হাজার ১ শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, দুদিনের টানা বৃষ্টিতে আলুর ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জমি থেকে পানি নিষ্কাষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আবার কোনো কোনো কৃষক সপরিবারে জমিতে আলু উঠানোর কাজে ব্যস্ত। আগাম জাতের প্রায় ২০ শতাংশ আলু কৃষকরা ঘরে তুলতে পেরেছেন। বাকি আলু কোল্ড স্টোরেজে রাখার জন্য মাঠেই রেখেছেন।
ক্ষেতলাল পৌর এলাকার ভাশিলা গ্রামের আহম্মদ আলী, তিনি এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। হঠাৎ বৃষ্টিতে পুরোটায় পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, এমনিতেই এ বছর আলু চাষে খরচ বেশি হয়েছে, আলুর বীজ ও সারের দাম অনেক বেশি। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগের কারণে আমি এবছর আলু চাষ করে পথে বসে গেলাম।
উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে একই পরিস্থিতি, বড়াইল ইউনিয়নের বিনাই গ্রামের আব্দুল্লাহ বলেন, তার ৯ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করা আছে কিছুদিন পর সেগুলো উঠানো হতো। গতবারের লোকসান উঠানোর জন্য এ বছর বেশী করে আলু রোপণ করেছিলাম, কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে সে আশায় গুড়ে বালি। আলমপুর ইউনিয়নের কানাইপুকুর গ্রামের নুরুল ইসলাম বলেন, তার দুই বিঘা জমিতে সরিষা লাগানো আছে অসময়ের বৃষ্টি এবং বাতাসে হেলে গিয়ে গাছ পানিতে ডুবে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২০ ভাগ আলু উঠানো হয়েছে। বাকিটা কৃষকরা কোল্ডস্টোরে রাখার জন্য মাঠে রেখেছিল, কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে কৃষকরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেন। দু’একদিনের মধ্যে আলুর জমি থেকে পানি সরাতে না পারলে সমস্ত আলু নষ্ট হওয়ার উপক্রম হবে।









































