মল্লিক মো. জামাল, তালতলী (বরগুনা)

  ২৪ জানুয়ারি, ২০২১

হাড়িয়ে যাচ্ছে সোনাকাটা ইকোপার্কের হরিণ

বরগুনার তালতলীতে টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে গড়ে তোলা সোনাকাটা ইকোপার্কের হরিণগুলো দিন দিন হাড়িয়ে যাচ্ছে। যদিও হরিণগুলো হাড়িয়ে গেলে ইকোপার্কের প্রতি কমে যাবে পর্যটকদের আকর্ষণ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সোনাকাটা ইকোপার্কের ভিতরে হরিণ রাখার চারপাশের বেষ্টনী হেলে গেছে। আবার মাঝে মাঝে ভেঙে গেছে। বেষ্টনীর রডগুলো মরিচাও ধরেছে। আবর ভেতরের রাস্তাগুলো খুব খারাপ। কোথাও ইটের সলিং ওঠে গেছে। ইটের সলিং এর মাঝে মাঝে ছোট ছোট কাঠের পুল রয়েছে। কোথাও বা আবার সুপারি গাছের রয়েছে পুল।

শুরুতে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির দেখা মিললেও এখন আর তেমন মিলছে না। ফলে দিন দিন কমছে দর্শনার্থী সংখ্যা। বনের ভিতর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার হেটে গেলে দেখা মিলবে সমুদ্র সৈকতের। সেখানে গিয়ে দেখা যাবে সূর্যাস্ত ও সূর্যদয়ের মনোরম দৃশ্য। বনের ভিতর দিয়ে বয়ে গেছে ছোট ছোট খাল, দেখা যাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

যদিও এখন বনের কোনো সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেই। সংরক্ষণের অভাবে বনের সৌন্দর্য শেষ হয়ে যাচ্ছে। হরিণগুলো রাখার জন্য বন কর্মকর্তাদের নেই তৎপরতা।

জানা গেছে,বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেংরা-গিরি বনাঞ্চলের সখিনা বিটে এ সোনাকাটা ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়।

প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে এই ইকোপার্কে ৮টি হরিণ, ২৪টি শুকুর, ৮টি চিতাবাঘ, দুটি অজগর ও দুটি সাজারু ছাড়া হয়। এছাড়াও তিনটি কুমির নিয়ে একটি কুমির প্রজনন কেন্দ্রও ছিল। এখন তেমন কোনো হরিণ বা অন্যান্য কোনো জীব দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে দুই একটা হরিণ দেখা গেলেও তা রক্ষা করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো বেড়িয়ে যায়। এর আগে হারিয়ে যাওয়া হরিণগুলো উদ্ধার করতে পারেনি বন বিভাগ। এর জন্য স্থানীয়রা বন বিভাগের দায়িত্বহীনতাকেই দায়ি করছেন।

স্থানীয়রা জানান, জোয়ার ভাটার কারণে সোনাকাটা ইকোপার্কের অবস্থা বেহাল। শিগগিরই ইকোপার্কের উন্নয়ন কাজ না করলে অচিরেই তা ধ্বংস হবে। ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব না বন বিভাগের অব্যবস্থাপনায়।

তালতলী রেঞ্জের সখিনা বিট কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, আমি আসছি তিন মাস হয়েছে। গহীন জঙ্গলে অনেক হরিণ অবাধে ঘুরছে। স্থানীয় অসাধু কিছু লোক যেন হরিণ শিকার না করতে পারে সে বিষয় আমরা তৎপর রয়েছি। আমরা বন রক্ষা করার জন্য সার্বক্ষনিক তত্ত্বাবধান করছি।

তালতলী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর হরিণের বেষ্টনী সংরক্ষণের জন্য বরাদ্দ কম বেশি হয়ে থাকে। এ বছরের বরাদ্দ দিয়ে চার পাশের বেষ্টনীগুলোর কাজ করবো। যাতে হরিণ বেরিয়ে যেতে না পারে এবং হিংস প্রাণি শিকার বা ক্ষতি করতে না পারে।

পিডিএসও/এসএম শামীম

তালতলী,সোনাকাটা ইকোপার্ক,হরিণ
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close