গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে আব্দুল বাতেন, বিচার দাবি নির্যাতিতদের

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৫

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াত নেতা যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে আব্দুল বাতেন

ইউএনও লাঞ্ছনা মামলায় গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন পাবনার বেড়া পৌরসভার সাময়িক বরখাস্ত মেয়র আব্দুল বাতেন। তার পলায়নে বদলে গেছে বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দৃশ্যপট। তার বিরুদ্ধে অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরে মুখ খুলেতে শুরু করেছেন নির্যাতিতরা।

পাবনার বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, হুমকি এবং এবং ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দিকীকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করায় গত বুধবার রাতে বেড়া থানায় পেনাল কোডের ৩২৩, ৩৩২, ৩৫৩, ৩৫৫ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই আব্দুল বাতেনকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি আত্মগোপন করেছেন।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একটি সূত্র অভিযোগ করেছে, মামলা দায়েরের সাথে সাথে বেড়া থানা পুলিশের কোনও এক অফিসার আব্দুল বাতেনকে বিষয়টি জানিয়ে আত্মগোপনে চলে যাবার সুযোগ করে দেয়। আব্দুল বাতেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু এমপির ভাই হওয়ায় তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অনীহা রয়েছে।

এদিকে, আব্দুল বাতেন এলাকা ছাড়ার পর তার অনিয়ম দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতার বিচার চেয়েছেন নির্যাতিতরা। তাকে আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারী হিসেবেও দাবি করছেন তারা। 

অভিযোগ উঠেছে, এক সময় জামায়াত নেতা যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর ঘনিষ্ঠজন ছিলেন আব্দুল বাতেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পক্ষে কাজও করেন তিনি। ২০০৮ এ বড়ভাই শামসুল হক টুকু এমপি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হলে, দলের ত্যাগী নেতাদের টপকে বাগিয়ে নেন বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ। এরপর নিজস্ব বলয় তৈরি করে কায়েম করেন ত্রাসের রাজত্ব।

জাতসাখিনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, আব্দুল বাতেন সাহেব ২০০৬ সাল পর্যন্ত নিজামীর শুধু ঘনিষ্ঠই ছিলেন না, তাকে পিতার আসনে বসিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে তিনি আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করে ফেলেন। জামাত বিএনপির লোকজনকে ক্ষমতা দিয়ে তিনি এখানে আওয়ামী লীগ ধ্বংস করে বাতেন লীগ প্রতিষ্ঠা করেছেন। 

বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ দুলাল বলেন, আইনের তোয়াক্কা না করে নিজের মতো করে পৌরসভা চালাতেন আব্দুল বাতেন। খবরদারি করতেন অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও। নদী দখল, অবৈধ বালি উত্তোলন, ভূমি দখল, হাট বাজারের টাকা আত্মসাৎ এমনকি তৈরি করেছেন অবৈধ নৌবন্দরও। এসব কাজে তাকে বাধা দিলেই হেনস্থা করেন সরকারি কর্মকর্তাদের, অত্যাচারে অতিষ্ঠ দলীয় নেতাকর্মীরাও। দুদকের একাধিক মামলায় জেল খেটেও তিনি নিজেকে শুধরাতে পারেন নি। বরং তার মত লোক উপজেলায় সভাপতি থাকায় আমরা অত্যাচারিত, বিব্রত হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, শৃংখলাভঙ্গের অভিযোগে গত ১৪ এপ্রিল দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আব্দুল বাতেনকে আওয়ামী লীগের থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। আমরা তার বিচার দাবি করছি।

এদিকে, তদন্তে ইউএনও লাঞ্ছিতের ঘটনার প্রমাণ মিলেছে, অপকর্মের বিচার হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি কবীর বিন আনোয়ার।

গত বৃহস্পতিবার বেড়া উপজেলা পরিষদে তিনি সাংবাদিকদের বলেন বেড়ার জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তিনি জেনেছেন, আব্দুল বাতেন এ এলাকায় একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছিলেন।  নিজস্ব মনগড়া আইনে চালিয়েছেন এখানকার সকল কার্যক্রম। 
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন। এ সব ঘাপটি মেরে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় নিজের বিধি বহির্ভূত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে না পেরে ইউএনও আসিফ আনাম সিদ্দীকীকে লাঞ্ছিত করেন সদ্য বরখাস্ত হওয়া বেড়া পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন। এ ঘটনায় আবদুল বাতেনকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।