আনোয়ারায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৬:৫৪

মো. সোহেল, আনোয়ারা

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা আগামী ২২ অক্টোবর থেকে শুরু। এ উৎসবকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পূজা মণ্ডপ গুলোতে প্রতিমা গড়ে তুলতে দিনরাত কাজ করছেন শিল্পীরা।

এবার আনোয়ারা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১০৭ মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে মন্দির গুলোতে চলছে ব্যাপক সাজসজ্জা। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ মণ্ডপে প্রথম মাটির কাজ শেষে এখন দ্বিতীয় দফার কাজ চলছে।

সাধারণত প্রতিমা তৈরির সাজসজ্জার জিনিস কেনেন কারিগররা, যা তাদের মজুরির ভেতর থাকে। একেকজন কারিগর ৫ থেকে ৬টি মন্দিরের প্রতিমা তৈরি করছেন। মন্দিরভেদে ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন তারা। প্রতিমা তৈরির অন্যান্য উপাদান, মাটি, খড়, বাঁশ কিংবা অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

প্রতিমালয়গুলোতে চলছে দুর্গা দেবীর প্রতিমা গড়ে তোলার ধুম। প্রতিমায় দেবীর মূল অবয়ব গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিমায় মাটির প্রলেপ দেয়াও শেষ। এবার চলছে রং-তুলির কাজ। শিল্পীর তুলির আঁচড়ে মূর্ত হয়ে উঠছে দেবীর রূপ। ফলে এখন দম ফেলার সময় নেই মৃৎশিল্পীদের। এ উপলক্ষে প্রতিমা তৈরির কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

শুক্রবার দুপুরে আনোয়ারার জয়কালী বাজার এলাকায় জয়কালী প্রতিমালয় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা নির্মাণে ব্যস্ত মৃৎশিল্পী রাজেশ রায়, সুমন বিশ্বাস, রিংকু শীল ও কাজল দাশ। প্রতিবারের মতো এবারো নৈপুণ্যের সঙ্গে প্রতিমা বানানোর কাজ চলছে দিনরাত। বাংলা শ্রাবণ মাসের শুরু করে আশ্বিন মাস পর্যন্ত এ তিনমাস ধরে চলে প্রতিমা তৈরির কাজ। এখন প্রায় শেষের পর্যায়ে। প্রতিটি প্রতিমায় বাঁশ-খড়খুটো দিয়ে তৈরি দেবীর অবয়বের ওপর মাটির প্রলেপ দেয়ার কাজ শেষ করে এখন দিনরাত চলছে রঙের কাজ। দেবী দূর্গার বাহন সিংহ, মহিষা সুর, দেবী লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ এবং তাদের বাহন পেঁচা, হাঁস, ইঁদুর আর ময়ূরে রঙের কাজ শেষ করছেন মৃৎশিল্পীরা। 

মৃৎশিল্পী  রাজেশ রায় বলেন, উপজেলা থেকে ২০টি প্রতিমা তৈরির কাজ আমি পেয়েছি। মানভেদে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। এখন চলছে প্রতিমায় রঙের কাজ। পূজার ষষ্ঠী দিনের মধ্যে প্রতিমা বুঝিয়ে দিয়ে দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে মর্তলোকে মায়ের বাড়িতে দুর্গা দেবীর আগমন হবে। ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ২৩ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ২৪ অক্টোবর মহাঅষ্টমীসহ নবমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ অক্টোবর দশমী বিহিতপূজা শেষে দেবী মর্তলোক ছেড়ে স্বর্গলোকে শিবের বাড়ি ফিরে যাবেন। এবার মা দূর্গা দোলায় আসছে এবং যাবে গজে।

‘যখন দেশে রোগ-মহামারির সৃষ্টি হয় তখন মা দুর্গা দোলায় আসেন। এরপর যাওয়ার সময় গজে যান।’

এদিকে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার মা কমিউনিটি সেন্টারে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আনোয়ারা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুগ্রীব মজুমদার দোলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও আনোয়ার সদরের চেয়ারম্যান অসীম কুমার দেব।

সাধারণ সম্পাদক নিউটন সরকারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃণাল কান্তি ধর, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য বিশ্বজিত পালিত, হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এড. হরিপদ চক্রবর্তী, প্রকৌশলী সুবোধ মিত্র, সাধারণ সম্পাদক সাগর মিত্র, হরিপদ চৌধুরী বাবুল, লায়ন অজিত কুমার নাথ, সজিব দেব নাথ, অনুপম চক্রবর্তী বাবু, গৌতম দাস, যীশু মিত্র, মাস্টার নারায়ন সরকার, দিলীপ শীল,ঝোটন মজুমদার, রাম লাল দেবনাথ, অনুপম দত্ত,সুবাস সিংহ, রতন কুমার শীল, মাস্টার রতন কুমার শীল, দেবরাজ শীল, সত্যজিত সিকদার, কাজল মিত্র, টিটু আইচ, রুপন দত্ত, ডা. বাবুল কান্তি শীল জোটন দাশ, আনন্দ মোহন দত্ত, অবিকল দাশ গুপ্ত, জহর লাল শীল,মাস্টার দ্বীপন কুমার শীল, দীপু দত্ত, রাজিব দেব নাথ, রিটন নাথ বাবু, আনন্দ মোহন দত্ত রনি সিংহ।

আনোয়ারা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুগ্রীব মজুমদার দোলন বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এ বছর পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতাসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে। পূজায় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি মহোদয় সার্বিক সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকারের স্বাস্থ্য বিধি মেনেই পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে পূজাকে ঘিরে মন্দিরে মন্দিরে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা নিয়মিত সার্বিক খোঁজ-খবর রাখবেন, যেন সুন্দর সুষ্ঠভাবে উৎসব সম্পন্ন হয়।

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ দুলাল মাহমুদ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রশাসন সর্বদা সজাগ থাকবে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের উৎসব পালন করতে পারে সে বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য বিধি মেনেচলাসহ মাদক ও ইভটিজিং বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবে।

পিডিএসও/এসএম শামীম