ব্যাপক চাঁদাবাজি : সিএনজি প্রতি ১২ হাজার টাকা!

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:৫৯

আল-আমিন মিয়া, পলাশ (নরসিংদী)

নরসিংদীর ইটাখলা থেকে গাজীপুরের রাজবাড়ি পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার সড়কপথে সিনিএনজি পরিবহনে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। নামে-বেনামে এসব চাঁদা আদায়ে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এই রোডে চলাচলরত সিএনজি চালকরা। দিন শেষে জমার টাকা তুলতে না পেরে যাত্রীর ওপর ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছে তারা। এতে করে চরম ভোগান্তিত পড়তে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদেরকেও।

এছাড়া গাজীপুর ও নরসিংদীর সাথে যোগাযোগের জন্য শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত চরসিন্দুর ব্রিজের দুই পাড়ে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে সিএনজি ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এসব স্ট্যান্ড থেকে প্রতিনিয়ত আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা চাঁদা। শুধু তাই নয়, চরসিন্দুর ব্রিজ থেকে গাজীপুর রোডে কোনো সিএনজি চলাচল করলে মালিক পক্ষকে রোড পার্মিশনের নামে গুনতে হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা!।

অভিযোগ রয়েছে এসব টাকা সরাসরি সংগ্রহ করেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলম মিয়া নামে এক ব্যক্তি। সড়ক পথে এসব চাঁদাবাজির কারণে ব্রিজের দুইপাড়ে সিএনজি চালকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা। একপাড়ের সিএনজি অন্যপাড়ে যেতে চাইলে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে চালকদেরকে। অনেক সময় সিএনজি চালকদের সিন্ডিকেডের লোকজন যাত্রী নামিয়ে সিএনজিসহ চালকদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। এমনকি নিয়ম ভেঙে যাত্রী নিয়ে একপাড়ের সিএনজি অন্যপাড়ে গেলে মারধরের শিকারও হচ্ছে চালকরা।

সরেজিমন গিয়ে চালকদের সাথে কথা বলতেই চরসিন্দুর গ্রামের ইয়াছিন নামে এক সিএনজি চালক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, গত ১ মাস আগে যাত্রী নিয়ে চরসিন্দুর ব্রিজ হয়ে গাজীপুরের ছোনপাড়া গ্রামে পৌঁছালে সেখানে স্ট্যানের লোকজন তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরে পলাশ থেকে অন্যচালকরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

চরসিন্দুর থেকে গাজীপুর রোডে চলাচলরত একাধিক সিএনজি চালকরা অভিযোগ করেন, চরসিন্দুর ব্রিজ থেকে গাজীপুর রোডে সিএনজি চালাতে হলে মোক্তারপুর ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আলম মিয়াকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে দিতে হয়। টাকা না দিলে ওই রোডে গাড়ি চলতে দেওয়া হয় না।

এসব বিষয়ে মোক্তাপুর ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আলম মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এছাড়া চালকদের মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চালকদের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এক পাড়ের সিএনজি অন্যপাড়ে আসা-যাওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙে একপাড়ের সিএনজি অন্য পাড়ে গেলে বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হতে হয়।

এসব বিষয়ে কথা বলতে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবলী সাদিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ব্রীজের ওপর অবৈধ স্ট্যান্ড ও চাঁদাবাজির বিষয়টি জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিডিএসও/এসএম শামীম