যে কারণে ডিগ্রি পরীক্ষায় ফেল করেছে মিন্নি

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২০, ২০:৪০

অনলাইন ডেস্ক

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত হত্যা মামলার আসামি ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ডিগ্রি পরীক্ষায় সাত বিষয়ের মধ্য চারটিতে অকৃতকার্য হয়েছেন। উত্তীর্ণ হওয়া তিন বিষয়ের মধ্যে একটিতে ডি গ্রেড এবং বাকি দুটিতে সি গ্রেড পেয়েছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য প্রকাশিত ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশিত হয়।

জানা গেছে, মিন্নি স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস বিষয়ে পেয়েছেন ডি গ্রেড। রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম পত্রে পেয়েছেন সি গ্রেড। ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্রে পান সি গ্রেড। আর রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, ইসলামের ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, অর্থনীতি প্রথম এবং দ্বিতীয় পত্রে পাস করেননি।

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স (বিএসএস) গ্রুপ থেকে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। একই বছরের শেষ দিকে এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর শেষ হয় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

করোনাভাইরাসের কারণে আদালত বন্ধ হওয়ার আগে মিন্নির ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়। একদিকে রিফাত হত্যা মামলার বিচার কাজ অন্যদিকে পরীক্ষা চলায় মামলার কার্যদিবসেও আদালতের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। এ বিষয়ে মিন্নির বাবা মো. মোজাম্মেল হোসেনে কিশোর বলেন, মিন্নি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে পারেনি। তার যে অবস্থা তাতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভবও নয়।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতি যথাযথভাবে নিতে পারেনি মিন্নি। যে সময়ে তার প্রস্তুতি নেয়ার কথা, সে সময়ে ৪৯ দিন কারাগারে ছিল। স্বামীকে হারিয়েও মিন্নি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত ছিল। এছাড়া নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হতো। এসব কারণে তার পরীক্ষার ফলাফল ভালো হয়নি। তারপরও মিন্নি দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে এবং প্রথম বর্ষের খারাপ হওয়া পরীক্ষাগুলোর ইম্প্রুভমেন্ট দিতে পারবে।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে তার স্ত্রী মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করে নয়ন বন্ডের গড়া কিশোর গ্যাঙ ‘বন্ড গ্রুপ’। পরে বিকেলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান রিফাত।

পিডিএসও/এসএম শামীম