পাথরঘাটায় নিম্নমানের কাজে বাধা

কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২০, ১৪:৩১ | আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ১৪:৪৬

​পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভায় ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজে বাধা দেওয়ায় পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারিকুল ইসলাম লিটনকে মারধর করে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা করা হয়েছে। 

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পাথরঘাটা পৌরসভার খাদ্যগুদামের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করা হয়। 

নারী নেত্রী মিনারা বেগমের নেতৃত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন—তাসলিমা বেগম, শাহিন ও আবদুর রশিদ প্রমুখ। এ সময় বক্তারা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

কাউন্সিলর লিটন জানান, পাথরঘাটা পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ডের রুপনগর ডগউর্য়াড এলাকায় তিন হাজার পরিবারের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন স্বাভাবিক জোয়ারে এলাকার ঘরবাড়ি ডুবে যায়। বিষয়টি পৌরসভার মেয়র আমলে নিয়ে গত অর্থবছরে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আওতায় ৫৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় সাড়ে চার ফুট উচ্চতা এবং আটশ ফুট দৈর্ঘ্য রাস্তা নির্মাণে টেন্ডার আহ্বান করেন। ই-টেন্ডারের মাধ্যমে মালিহা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ওই কাজ মালিহা এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী মঞ্জুরুল ইসলাম বিক্রি করেন ঠিকাদার জিয়াউর রহমান শাহিনের কাছে। শাহিন গত ১ জুলাই কাজটি শুরু করেন। নিম্নমানের কাজ করায় ওই এলাকার লোকজন লিটন কাউন্সিলরের কাছে আপত্তি তোলেন। এ সময় কাউন্সিলর এসে নিম্নমানের কাজে বাধা দিলে ঠিকাদার তার লেবার শ্রেণির লোকদের নিয়ে কাউন্সিলরকে শারীরিক লাঞ্জিত করেন। এ সময় এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করলে ঠিকাদার শাহিন ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পাথরঘাটা থানায় কাউন্সিলরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে মামলা করেন।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার জিয়াউর রহমান শাহিন জানান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিটনকে কাজে শেয়ার না দেওয়ায় তিনি আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি চাঁদা না দিয়ে কাজ করতে গেলে কাজে বাধা দেন। এ সময় তার সাথে একটু হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। 

পাথরঘাটা থানার ওসি মো. শাহবুদ্দিন চাঁদাবাজি মামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত ৩ জুলাই থানায় মামলা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিরা পলাতক রয়েছে। আমরা আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

পিডিএসও/হেলাল