সঙ্গীর খোঁজে বাঘ পাড়ি দিল ৩ হাজার কিলোমিটার

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ১০:৪৪ | আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ১০:৫৪

অনলাইন ডেস্ক

সাড়ে তিন বছর বয়স বাঘটির। এরই মধ্যে তিন হাজার কিলোমিটার হেঁটে ফেলেছে সে। খাদ্য কিংবা বাসস্থানের কোনো সমস্যা নেই। নেই প্রতিদ্বন্দ্বী কারো সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকার চ্যালেঞ্জ। ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে শুধুমাত্র মনের মতো সঙ্গীর খোঁজে সে এতদূর পাড়ি দিয়েছে।

মহারাষ্ট্র বনবিভাগের রেজিস্ট্রারে বাঘটির পরিচিতি টি১সি১ নামে। দেশ-বিদেশের বন্যপ্রাণী গবেষকদের কাছে ইতোমধ্যে ‘ওয়াকার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে সে। গলায় লাগানো রেডিও কলারের তথ্য জানাচ্ছে, ২০১৯ সালের জুন মাসে ভারতের যভতমল জেলার টিপেশ্বর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ওয়াকার।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মহারাষ্ট্রের সাত জেলা এবং পড়শি রাজ্য তেলেঙ্গানার জঙ্গলে ঘুরেও সঙ্গীর সন্ধান পায়নি বাঘটি। পরবর্তী নয় মাস সেখানকার বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে বেড়ায় সে। গলায় লাগানো রেডিও কলারের তথ্য বলছে, তেলেঙ্গানার আদিলাবাদের জঙ্গলে বেশ কিছুদিন কাটিয়েছিল ওয়াকার। তারপর আবার পথচলা শুরু করে।

প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, গত মার্চে ভারতীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা পারভিন কাসওয়ান সর্বপ্রথম ওয়াকারের কথা জানিয়েছিলেন। জানানোর আগেই দুই হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পুরনো ডেরার কাছাকাছি ফিরে আসে সে। মহারাষ্ট্রের যভতমল এবং নান্দেড় জেলার পাইনগঙ্গা অভয়ারণ্যে অস্থায়ী আস্তানা বানিয়েছিল বাঘটি। এপ্রিলে বাঘটি ধরে রেডিও কলার বদল করে বন বিভাগের কর্মকর্তারা। এরপর অওরঙ্গাবাদ জেলার অজিণ্ঠা পাহাড়ের বনেও কিছুদিন ছিল বাঘটি। প্রাচীন গুহাচিত্রের জন্য বিখ্যাত এই পর্যটনকেন্দ্রে অবশ্য কেউ বাঘটির দেখা পাননি।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সঙ্গীর খোঁজ ছাড়া বাঘটির এত পথ পাড়ি দেয়ার অন্য কোনো কারণ থাকার সম্ভাবনা নেই। তারা এখন বাঘটির জন্য উপযুক্ত সঙ্গী খোঁজার কথা ভাবছেন।

মহারাষ্ট্র বন বিভাগের কর্মকর্তা নিতিন কাকোডকর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত তিন মাসে অনেক পথ হেঁটেছে বাঘটি। আপাতত সে টিপেশ্বর থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৭৫ কিলোমিটার দূরে বুল্দনা জেলার দয়াগঙ্গা অভয়ারণ্যে রয়েছে। আমরা জিপিএস ট্র্যাকারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছি, এ পর্যন্ত সে প্রায় ৩,০২০ কিলোমিটার পথ হেঁটেছে।’

সঙ্গীর সমস্যা নিয়ে বন বিভাগের নিতিন বলেন, ‘দয়াগঙ্গা অভয়ারণ্যে চিতাবাঘ, ভালুক, হরিণ, নীলগাই থাকলেও অন্য কোনো বাঘ নেই। রাজ্যের অন্য কোনো জঙ্গল থেকে একটি বাঘিনিকে সেখানে আনা যায় কি না, সে বিষয়ে আমরা ভাবনা-চিন্তা করছি।’

এত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করলেও সে কোনো মানুষের ওপর আক্রমণ করেনি জানিয়ে পরভিন জানান, ‘ওয়াকার মূলত দিনের বেলায় বিশ্রাম নিয়ে রাতে জঙ্গল, নদী, রাস্তা পেরিয়ে হেঁটেছে। এই দীর্ঘ পথে বড় লোকালয় এড়িয়ে চলেছে সে। মাঝেমধ্যে গবাদি পশু মারলেও মানুষের ওপর হামলা করেনি।’

প্রসঙ্গত, টিপেশ্বরের বাঘিনি টি-১-এর সন্তান টি১সি১-কে ছোটবেলাতেই রেডিও কলার পরিয়েছিল ভারতীয় বন বিভাগ।

পিডিএসও/ জিজাক