ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
ধুনটে যমুনায় ফের ভাঙন বালির বস্তায় রোধ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আবারও তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের জমি। এতে নদীপাড়ের মানুষের মাঝে নতুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভাঙন দেখা দেওয়ার পরই কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানো হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ী গ্রামে গত বছর অক্টোবরে যমুনার আকস্মিক ভাঙনে সমতল ভূমিসহ ৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সে সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে নদীর তলদেশ ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এবং তীব্র ¯্রােতের ঘূর্ণাবর্তে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। পরবর্তীতে ভাঙনকবলিত তীর ধরে বালিভর্তি জিও ব্যাগ (বালির বস্তা) ফেলে ডাম্পিং করার মাধ্যমে ভাঙন রোধ করা হয়।
কিন্তু সম্প্রতি যমুনায় আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত শুক্রবার থেকে শহরাবাড়ী ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড ¯্রােতের কারণে ঘূর্ণেবর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি নদীপাড়ে আঘাত হানছে। এতে জিও ব্যাগ দিয়ে তীর সংরক্ষিত এলাকাও ভাঙনের শিকার হয়েছে। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের জমি। এ কারণে স্থানীয় লোকজনের মাঝে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দেয়।
এদিকে নদী ভাঙনের খবর পাওয়ার পর পরই স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ও বিশেষ টিউব ফেলার কাজ করছে। নদীর মাঝখান থেকে বিশেষ নৌকায় বালি এনে ৪ মিটার বাই দেড় মিটার সাইজের বিশেষ টিউব বস্তায় বালি ভরা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, ‘ভাঙন শুরুর পর পরই ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বালিভর্তি এই বিশেষ টিউবগুলো নদীর ভাঙন রোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ কারণে নদী ভাঙনে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই’। এদিকে ভাঙন রোধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করায় স্থানীয় লোকজন সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে নদীপাড়ের মানুষের মূল দাবি এখন ভাঙন রোধে একটি স্থায়ী সমাধান।
"





































