ভোলা প্রতিনিধি

  ২১ জুন, ২০২৬

ভোলায় চাকরি পেল তরুণ-তরুণীরা

যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভোলায় দিনব্যাপী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তাৎক্ষণিক নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১০৩ জন চাকরিপ্রত্যাশীকে প্রাথমিকভাবে চাকরির জন্য নির্বাচিত করা হয়। 

গতকাল শনিবার ভোলা সদর উপজেলার চরনোয়াবাদ পুলিশ লাইনস মোড় এলাকায় গ্রামীণ জনউন্নয়ন সংস্থার (জিজেইউএস) প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। ‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মানবসম্পদ সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে পল্লী কর্মণ্ডসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগী সংস্থা জিজেইউএসের উদ্যোগে রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট প্রকল্পের আওতায় মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম আহম্মেদ। পরে তিনি বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মেলায় মোট ১৭টি প্রতিষ্ঠান ও ট্রেড অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল কাজী ফার্ম, সুজুকি, টিভিএস, জিজেইউএস, হিড বাংলাদেশ, জুত্তি, ওয়ালটন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, পল্লীসেবা, অ্যালুমিনিয়াম ফেব্রিকেশন, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, নকশিকাঁথা ও নবউদ্যোক্তা সেকশন, ইয়ামাহা, বেস্ট ইলেকট্রনিক্স, প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার এবং প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আয়োজক সূত্রে জানা যায়, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত জনবল চাহিদা ছিল ৮৬ জন। এ উপলক্ষে মোট ১ হাজার ৬৬৩ জন চাকরিপ্রত্যাশী জীবন বৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেন। পরে যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ১০৩ জনকে প্রাথমিকভাবে চাকরির জন্য নির্বাচন করা হয়।

সবচেয়ে বেশি নিয়োগের সুযোগ দেয় জিজেইউএস। প্রতিষ্ঠানটির ২০টি পদের বিপরীতে ৪১৮টি সিভি জমা পড়ে এবং ৩০ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া হিড বাংলাদেশে ১০ জন, প্লাম্বিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিংয়ে ৮ জন, মোবাইল ফোন সার্ভিসিংয়ে ৭ জন, অ্যালুমিনিয়াম ফেব্রিকেশনে ৬ জন এবং পল্লীসেবায় ৫ জন চাকরিপ্রত্যাশী চাকরির সুযোগ পান। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও বিভিন্ন সংখ্যক প্রার্থী তাৎক্ষণিক কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করেন।

মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা চাকরিপ্রত্যাশীদের চাকরির সুযোগ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন। এতে একদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় জনবল খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে, অন্যদিকে চাকরিপ্রত্যাশীরা সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পেরেছেন।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ যুব বেকারত্ব কমাতে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রেইস প্রকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও যুবকদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রেইস প্রকল্পের উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী ও পিকেএসএফের ব্যবস্থাপক গোলাম জিলানী, গ্রামীণ জনউন্নয়ন সংস্থার পরিচালক (প্রোগ্রাম ও লিগ্যাল) অ্যাডভোকেট বীথি ইসলাম, পরিচালক (মাইক্রোফাইন্যান্স) মো. মোস্তফা কামাল, পরিচালক (মনিটরিং ও ইন্টারনাল ট্রেনিং) হুমায়ুন কবীর এবং অতিরিক্ত পরিচালক (মাইক্রোফাইন্যান্স) ও রেইস প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. জাহিদুর রহমান।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়