ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি

  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

রামাবতীর ঘোমটা খুলতে জগদল পুনঃখননের দাবি

কথিত আছে, পাল আমলের শেষের দিকে প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিল রামাবতী নগর। গবেষকরা বলছেন, দ্বাদশ শতকের কবি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম গ্রন্থ থেকে এ ব্যাপারে একটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। সেখানে প্রাচীন বাংলার রাজধানী রামাবতী নগরের কথা উল্লেখ রয়েছে। নওগাঁ জেলার ধামইরহাটের জগদলকে পালবংশীয় রাজা রামপাল নিজের নামানুসারে নামকরণ করেন রামাবতী। সেখানে তিনি নির্মাণ করেন পদ্ম মহাবিহার বা লোটাস মহাবিহার। রামাবতী যে পাল আমলের বাংলার শেষ রাজধানী সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে জগদল মহাবিহার পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কথিত আছে, রাজা রামপাল ভীমকে যুদ্ধে পরাজিত করে ওই এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য জগদলে পদ্ম মহাবিহার স্থাপন করেন। রাজা রামপাল পরে জগদলকে রাজধানী করে নাম রেখেছিলেন রামাবতী। রামাবতী পাল বংশের শেষ রাজধানী। রাজা রামপাল ১৭ জন পালবংশীয় রাজাদের মধ্যে চতুর্দশ। তিনি একাদশ শতাব্দীতে এ বিহার নির্মাণ করেন। রাজা রামপাল এখান থেকেই পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারসহ অন্যান্য স্থান দেখাশোনা করতেন।

মাটি খুঁড়ে ইতিহাসের এসব উপাদান খুঁজে বের করতে জগদল বিহারের প্রথম উৎখনন শুরু হয় ১৯৯৬ সালে। মাঝে কিছু দিন বন্ধ থাকে। ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর আবারও শুরু হয় খনন কাজ। সর্বশেষ তৃতীয় পর্যায়ে খনন চালানো হয় ২০১৩ সালে। চলে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। ওই সময় খনন করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে বৌদ্ধমূর্তিসহ একের পর এক প্রাচীন নিদর্শন।

প্রতœতাত্ত্বিক বিভাগের কর্মকর্তারা অনেকটাই নিশ্চিত, সেই জগদল বিহারই লোটাস বিহার (পদ্ম মহাবিহার)। তারা বলেছেন, বরেন্দ্রভূমি তথা দেশের ৯০০ বছরের প্রাচীন স্থাপত্যশিল্প জগদল লোটাস মহাবিহার নতুন সংযোজন। এর আগে বাংলাদেশে কোনো বৌদ্ধবিহারে গ্রানাইট পাথরের পিলার দেখা যায়নি।

পাহাড়পুর জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মুহাম্মদ ফজলুল করিম বলেন, ধারাবাহিকভাবে চলা খনন কাজ এখন বন্ধ রয়েছে, কারণ লোকবল ও বাজেটের সংকট রয়েছে। শিগগিরই খননকাজ শুরু করা দরকার। খনন হলেই ইতিহাসের অনেক অধ্যায়ের ওপর আলো পড়বে। তখন রামাবতীর তথ্য দিনের আলোর মতো সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।

জানা গেছে, এ বিহারের দুজন স্বনামধন্য আচার্য ছিলেন দানশীল ও বিভূতিচন্দ্র। প্রায় ৬০ খানা গ্রন্থের তিব্বতি অনুবাদ করেন আচার্য দানশীল। রাজপুত্র বিভূতিচন্দ্র ছিলেন একাধারে গ্রন্থকার, টিকাকার, অনুবাদক ও সংশোধক। জগদল বিহারের আরেক আচার্য মোক্ষকর গুপ্ত তর্কভাষা নামে বৌদ্ধ ন্যায়ের ওপর একটি পুঁথি লিখেছিলেন।

ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, জগদলে অনুসন্ধানে যেসব তথ্য ও নিদর্শন পাওয়া গেছে, সেখানে রামাবতী নগর সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে বিহারটি পূর্ণাঙ্গ খনন, সংস্কার এবং আরো গবেষণা দরকার।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close