শরৎ উৎসবে সংগীত কবিতা আর নৃত্য

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংগীত, কবিতা আবৃত্তি এবং নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে হয়ে গেল শরৎ উৎসব। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিতে এই উৎসব আয়োজিত হয়। গতকাল শুক্রবার বিকালে উৎসবের শুরুতেই আলোচনা পর্ব আয়োজিত হয়। এই পর্বে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ সত্যেন সেনকে স্মরণ করে বলেন, সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে মুন্সীগঞ্জে এমন সচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যে পরিবারটি সেসময় অত্র অঞ্চলে সংস্কৃতিচর্চার দিক থেকে বেশ প্রভাবশালী ছিল। পহেলা বৈশাখে রমনার যে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করে উদীচী, সেই উদীচী গড়ে তোলার সঙ্গেও ছিলেন সত্যেন সেন। সত্যেন সেনকে এই জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। তিনি ১৯৮৬ সালে একুশে পদক পেয়েছিলেন। আদমজী পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কারও পেয়েছিলেন।

শরতে সবাইকে কাশফুল দেখার আহ্বান জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, শরতের রূপ সাদা শ্বেতশুভ্র; কাশফুলের মতো। আপনারা এ সময়ে কাশফুল দেখতে যাবেন। রাজধানীর বসুন্ধরায়, পূর্বাচলে, উত্তরায় কাশফুল দেখা যায়।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘আমাদের দেশে ছয় ঋতু। পৃথিবীতে আর কোনো দেশে এমন ছয় ঋতু নেই। শুধু ঋতু থাকলে তো হবে না, মাসে মাসে ঋতুর যে বৈচিত্র্য; সেটা আমাদের এখানে আছে। আবহাওয়া, জলবায়ুর যে তারতম্য আর সেই তারতম্যে সংস্কৃতির যে বৈচিত্র্য সেটিই আমাদের ষড়ঋতুর দেশ করেছে।

তেমনি এক ঋতু শরৎকে কেন্দ্র করে আজকের এই আয়োজনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা সংস্কৃতিচর্চার পরিসর খুঁজে পাই।’

সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি অধ্যাপক ড. নিগার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট বক্তব্য দেন। আলোচনা পর্বের পর শিল্পীদের সংগীত, নৃত্য এবং কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হয়।

সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন। নৃত্যশিল্পী সালমা মুন্নির পরিচালনায় দলীয় নৃত্য পরিবেশন করা হয়। মুক্তধারা সংস্কৃতিচর্চার আয়োজনে দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়।

এ ছাড়াও নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি একক কবিতা, শ্রাবণী গুহ রায়, এস এম মেজবা উদ্দিনসহ গুণী শিল্পীরা একক সংগীত পরিবেশন করেন।

 

"