হবিগঞ্জে করোনায়ও থেমে নেই সরকারি গাছ পাচার

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় সরকারি বনভিট থেকে করোনার মধ্যেও থেমে নেই গাছ পাচার। সুযোগ পেলেই যে কোন সময় গাছ কর্তনে নেমে পড়ছে বনখেকোরা। ছোট অথবা বড় যে কোন ধনের গাছই কর্তন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না চক্রটির কবল থেকে। এতে করে একদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, অন্যদিকে দিন দিন উজার হচ্ছে বনাঞ্চল।

স্থানীয়রা মনে করছেন, দিন দিন এভাবে গাছ পাচার হতে থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে জীববৈচিত্র। তাই দ্রুত পাচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান স্থানীয় এলাকাবাসি। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, গাছ পাচারকারীদের ধরতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন তারা। ইতিমধ্যে চক্রের বেশ কয়েকজনকে আটক করে মিয়মিত মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

জেলার চুনারুঘাট, বাহুবল ও মাধবপুর এলাকাটি একটি বনাঞ্চল এলাকা। এছাড়াও ওই ৩টি উপজেলার সাথে ভারতের সীমান্ত থাকায় ওই এলাকায় রয়েছে অনেক সরকারী খাস জমি। যেখানে অনেক স্থানেই প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে গঠেছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালি। এর মধ্যে অন্যতম হল রেমা কালেঙ্গা বনভিট। যা প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বনভিট বলে পরিচিত। এছাড়াও রয়েছে চুনারুঘাট পানছড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও বাহুবল পুটিজুড়ি বনভিট। বনভিটগুলো থেকে সরকারি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ প্রতিনিয়ত পাচার হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারিদের যোগসাজসে এসব গাছ রাতের আধারে পাচার হয়ে থাকে। আর তার বিনিময়ে ভাগের টাকা পেয়ে যান তারা। তবে গাছ পাচারের সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বনবিভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই মধ্যরাতে চুনারুঘাট উপজেলার ৫নং শানখলা ইউনিয়নের পানছড়ি মৌজার সরকারী ভূমি থেকে গাছ কেটে পাচার করছিল একটি চক্র। এসময় উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের তাৎক্ষণিক অভিযানে উদ্ধার করা হয় কাটা অবস্থায় ১৩৫টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। অভিযানের টেরপেয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে পানছড়ি আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পানছড়ি আশ্রয়ন প্রকল্পটি সরকারী খাস জমি। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক গাছ গাছালি রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার যোগসাজসে চোরচক্র রাতের আধারে গাছ কেটে নিয়ে যায়। দিন দিন গাছ পাচারের ফলে এলাকাটি এখন বিরান ভূমিতে পরিণত হতে চলেছে।

হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক কর্মকর্তা মারুফ হোসেন জানান, পানছড়ি থেকে গাছ পাচারকারীদের কোন ছাড় নেই। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মতি মামলা দায়ের করা হবে এবং শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে গাছ পাচারকারী চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও গাছ পাচার চক্রের সাথে বনবিভাগের কোন সদস্যের যোগসাজস নেই বলে দাবী করেন তিনি। তিনি বলেন, যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

চুনারুঘাট থানার (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, যাতের বিরুদ্ধে গাছ পাচারের মামলা রয়েছে তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশের মাঝে মধ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কয়েকজনকে গ্রেফতার করে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চালানো হবে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সত্যজিত রায় দাশ জানান, শুধু গাছ পাচারকারীই নয় যে কোন অপরাধ নির্মুলে উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

"