সোলার এনার্জিতে উজ্জ্বল পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া, কমছে বিদ্যুৎ বিল

দেশের বৃহৎ অবকাঠামো পদ্মা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২-এ ২.৪৯ মেগাওয়াট পিক (এমডাবলুপি)ক্ষমতাসম্পন্ন একটি আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা (সোলার সিস্টেম) সফলভাবে স্থাপন ও চালু করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সরকারি অর্থ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোলার সিস্টেমটি চালুর পর থেকেই সার্ভিস এরিয়ার বিদ্যুৎ চাহিদার বড় অংশ সৌরশক্তির মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও অবদান রাখছে প্রকল্পটি। এ বিষয়ে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, পদ্মা সেতুর মতো একটি জাতীয় স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সফল প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু বিদ্যুৎ ব্যয় কমাচ্ছে না, পরিবেশ সংরক্ষণ ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের গ্রিন এনার্জি নীতি বাস্তবায়নে সেতু কর্তৃপক্ষ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-২-এ স্থাপিত সোলার সিস্টেমটি নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সার্ভিস এরিয়ার নিজস্ব চাহিদা পূরণ করছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাতের বেলা বা মেঘলা আবহাওয়ায় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ করা হচ্ছে। এভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমন্বিত হিসাবের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ মাসে সার্ভিস এরিয়া-২-এর কোনো বিদ্যুৎ বিল আসেনি। কেবল ডিমান্ড চার্জ বাবদ ৭৫ হাজার ৭১৪ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। অথচ মে মাসে বিদ্যুৎ বিল ছিল ৫ লাখ ২১ হাজার ৬৪ টাকা। মে মাসে সোলার সিস্টেম থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে ৫৪ হাজার কিলোওয়াট-ঘণ্টা (ইউনিট) জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে, আর শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৪ হাজার ইউনিট। ফলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের হিসাবে প্রায় ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১, সার্ভিস এরিয়া-২ ও সার্ভিস এরিয়া-৩ মিলিয়ে মোট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬.০৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সার্ভিস এরিয়া-২-এ নেট মিটারিং কার্যক্রম চালু হয়েছে এবং সার্ভিস এরিয়া-১ ও ৩-এ এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পদ্মা সেতুতে সৌরশক্তির এই ব্যবহার সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে একটি সফল ও অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
"








































