ক্রীড়া প্রতিবেদক

  ২৩ ঘণ্টা আগে

শিউলির মাকে জয় উৎসর্গ

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে সবকিছু মিলিয়ে নেপালের চেয়ে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ হিসেবে ‘হিমালয়ের কন্যারা’ যেমন সংঘবদ্ধ ও গোছানো, তেমনি মাঠের বাইরের এক বড় ধাক্কা সামলাতে হয়েছে লাল সবুজের দলকে। বাঁচা-মরার এই ম্যাচের আগের দিন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের মা বাসনা আজিমের মৃত্যু হয়। মাঠের শক্তি আর বাইরের গভীর শোক- সব মিলিয়ে অনেকেই নেপালকে ফেভারিট ধরে নিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকদের সব যুক্তি-তর্ক একপাশে ঠেলে মাঠের লড়াইয়ে দুর্দান্ত মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফের ফাইনালে টিকিট কাটল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের আগের দিনই ব্রিটিশ কোচ বাটলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, শোকের এই আবহকে শক্তিতে বদলে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে তার দল। মাঠের পারফরম্যান্স আর টিম কম্বিনেশনে কোচের সেই চাওয়ার শতভাগ প্রতিফলন ঘটিয়েছেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও শামসুন্নাহার জুনিয়ররা। বিশেষ করে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে সাগরিকার করা জয়সূচক গোলটি ছিল নিখুঁত দলীয় বোঝাপড়ার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।

আক্রমণের সেই মুহূর্তে শামসুন্নাহার জুনিয়র চাইলে নিজেই গোলপোস্টে শট নিতে পারতেন। নিজের নামের পাশে একটি গোল যোগ করার দারুণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্বার্থপরতা দেখাননি তিনি। কারণ তার কাছে নিজের চেয়ে দলের জয়টাই ছিল বড়। নিশ্চিত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বল পাস করেন সাগরিকার উদ্দেশে। আর সেই পাসের সূত্র ধরে নেপালের দুই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান সাগরিকা। তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ।

এদিন ম্যাচ ঘড়ির ২২তম মিনিটে লিড নিয়েছিল নেপাল। তবে প্রথমার্ধের বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ঋতুপর্ণা চাকমা যা দেখালেন, তা বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এক দৃশ্য হয়ে থাকবে। কর্নার থেকে সরাসরি নেওয়া এক অবিশ্বাস্য ‘অলিম্পিক গোলে’ পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে বাংলাদেশকে ১-১ সমতায় ফেরান তিনি। এরপর দ্বিতীয় অর্ধে ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে গোল করে নেপালের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সাগরিকা।

অথচ এই সাফে প্রথম ম্যাচের পর ঋতুপর্ণাকে নিয়ে সমালোচনার কমতি ছিল না। নিন্দুকদের মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই জবাব দিলেন এই উইঙ্গার। গত বছর এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মিয়ানমারের বিপক্ষে বাঁ পায়ের জোড়া গোল কিংবা চীনের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য সেই শট- সবখানেই ছিল ঋতুর অবদান। মালদ্বীপের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে কিছুটা চেনা ছন্দের বাইরে থাকলেও, আজ সব সংশয় ঝেড়ে আবারও নিজের চেনা রূপেই ফিরলেন তিনি।

ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋতুপর্ণার কথাতেও ফুটে উঠেছে দলের এই অভূতপূর্ব একতার গল্প। ম্যাচসেরা ঋতু এই ঐতিহাসিক জয় উৎসর্গ করেছেন সতীর্থ শিউলি আজিমের সদ্যপ্রয়াত মায়ের প্রতি।

আবেগঘন কণ্ঠে ঋতু বলেন, ‘এই ম্যাচটি আমরা আমাদের টিমমেট শিউলি দিদির মাকে উৎসর্গ করেছি। পাশাপাশি দেশের সব মানুষকে এটি উৎসর্গ করছি।’ সেইসঙ্গে আগামীতেও দেশের মানুষের এমন অকুণ্ঠ সমর্থন ও দোয়া চেইয়েছেন এই ম্যাচজয়ী তারকা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়