নেইমার-এমবাপ্পের সতীর্থ হতে পারতেন রোনালদো

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০

ক্রীড়া ডেস্ক

সব সময় নিজের প্রিয় জায়গা ছেড়ে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই যেন পছন্দ করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে স্বপ্নের সময় কাটাচ্ছিলেন। হুট করেই যোগ দিলেন রিয়াল মাদ্রিদে। লস ব্লাঙ্কোসদের হয়ে টানা তিন চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে পাড়ি জমালেন জুভেন্টাসে। এবার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ইতালিতে টানা দুবার সিরি ‘আ’ লিগ শিরোপা জয়ের পর নাকি ২০২০-২১ মৌসুমে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন ফ্রান্সে। যোগ দিতে চেয়েছিলেন নেইমারের ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি)।

ফ্রান্স ফুটবল জানিয়েছে, করোনা মহামারি সৃষ্টির আগে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রোনালদো। তবে মহামারি রোনালদোর সব চিন্তা বদলে দিয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যমটির তথ্যানুযায়ী, নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে খেলার জন্য মনোস্থির করেছিলেন রোনালদো। ব্রাজিলিয়ান তারকার সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে তার। সে সময়ই যদি ক্লাবটির মালিক নাসের আল খেলাইফি আগ্রহ প্রকাশ করতেন তাহলেই নতুন মৌসুমে প্যারিসে দেখা যেতে পারত রোনালদোকে। কিন্তু কিছুটা দেরি করেন খেলাইফি। আর এরপর করোনাভাইরাসের কারণে পাল্টে যায় পরিস্থিতি।

ফ্রান্স ফুটবল আরো জানিয়েছে, জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই নাখোশ হয়ে পড়েন রোনালদো। এমনকি তুরিনে নিজের মন বসাতে পারছিলেন না। জুভেন্টাস বড় ক্লাব হলেও পর্তুগিজ মহাতারকাকে খুশি রাখার সক্ষমতা তাদের ছিল না বলেই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফ্রান্স ফুটবল।

রোনালদোর ক্লাব বদলে ফেলার এমন সিদ্ধান্তের পেছনে ফ্রান্স ফুটবল দায়ী করেছে জুভাদেরই। গত বছরের ২২ অক্টোবর চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে লোকোমোটিভ মস্কোকে হারিয়ে তুরিনে ফেরা রোনালদোদের কোনো প্রকার অভ্যর্থনা না দেওয়ার কারণেই চটে যান তিনি। সবকিছুই এতটাই নীরব ছিল যেন ম্যাচ হেরে ফিরেছেন রোনালদোরা। আর এই ব্যাপারটাই বিষিয়ে তোলে পাঁচবারের ব্যালন ডি’ অর জয়ীর মন। আর সে সময়েই জুভেন্টাস ছাড়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।

লোকোমোটিভের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে জুভেন্টাস জিতলেও গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে পারেননি রোনালদো। তবে রিয়াল মাদ্রিদে থাকতে দলের পারফরম্যান্সের কারণেও তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় মাতত সমর্থকরা। আর তখনই সাবেক লস ব্ল্যাঙ্কোস তারকা বুঝতে পারেন তুরিন আর যাই হোক, মাদ্রিদের মতো নয়। তুরিনে মাদ্রিদের মতো গ্রহণযোগ্যতাও তার নেই। এরপরই পিএসজির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন তিনি। তবে করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিক দিক দিয়ে প্রায় সব ক্লাবই ক্ষতির মুখ দেখায় শেষ পর্যন্ত তুরিনেই থাকতে হচ্ছে রোনালদোকে।

 

"