নিজস্ব প্রতিবেদক

  ৮ ঘণ্টা আগে

হাম ও উপসর্গে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গে দেশে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ হিসাব রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের। এর মধ্যে ৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে, আর একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা ৬২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৩৬ শিশু ও নিশ্চিত হামে ৯২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে যে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৩ শিশু ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯২। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৭৪ শিশু। তাদের মধ্যে ৩৪৬ শিশুই ঢাকা বিভাগের।

এরপর আছে চট্টগ্রাম (২২১) ও বরিশাল (১৩৪)। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে ১ হাজার ১৯৪ জন হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে।

গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৮০ হাজার ১০৪ জনের মধ্যে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৫ হাজার ২৩৭ জন। মোট হাম শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৭৯ জনের। এছাড়া হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে ৬১ হাজার ২৭৮ জন।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। টিকায় সংক্রমণ কিছুটা কমেছে বলেই প্রতীয়মান। ২ মাস আগে ৫ এপ্রিল হামের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছিল। অনেকেরই আশা ছিল টিকা দেওয়া শুরু হলে হাম কমবে, নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। কিন্তু হামের সংক্রমণ ও হামের ভয় এখনো সারা দেশে রয়ে গেছে।

গত ৫ এপ্রিল টিকা দেওয়া শুরু হয় বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, ঢাকার নবাবগঞ্জ, গাজীপুর সদর, যশোর সদর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাদারীপুর সদর, মুন্সীগঞ্জ সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও ফুলপুর, নাটোর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট, পাবনা সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া, রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায়।

এরপর ৮ এপ্রিল থেকে টিকা দেওয়া শুরু হয় ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে টিকা দেওয়া শুরু হয়। সরকারের লক্ষ্য ছিল ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার। তবে টিকা দেওয়া হয়েছে ১০০ শতাংশের বেশি। ৫ বছরের বেশি বয়সি কিছু শিশু টিকা পেয়েছে বলে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানান।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়