নিজস্ব প্রতিবেদক

  ৩ ঘণ্টা আগে

৬৫ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম বাড়েনি

তথ্যমন্ত্রী

দেশের শতকরা ৬৫ ভাগ সাধারণ ও নিম্নআয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে এই মূল্যবৃদ্ধির বাড়তি চাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হয়েছে। এর আগে তারা বিইআরসির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের আওতায় ছিল বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গতকাল শনিবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং মূল্য সমন্বয়ের কারণ ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। বাজারে অন্যায়ভাবে মূল্যবৃদ্ধি হলে সরকার নিশ্চয়ই কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়িয়েছে। ডিজেলের দাম বাড়ায়নি। গত ৩ জুন কমিশনের জারিকৃত আদেশ অর্থাৎ অন্তর্ভুক্ত আবাসিক লাইফলাইন, যারা শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন এবং প্রথম ধাপ যারা ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের পুনর্বিবেচনার জন্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো আবেদন করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে এই দুটো জায়গায়, তার মানে শূন্য থেকে সর্বোচ্চ ৭৫, মানে এটা দুটো ভাগে ভাগ করে বিল নির্ধারণ করা হয়। ৫০-এর নিচে যারা থাকেন তাদের জন্য একটা মূল্যস্তর, আর যারা ৭৫-এ যান তাদের জন্য আরেকটা মূল্যস্তর। আমরা বলতে পারি খুবই কম মূল্যে এই বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। ৫০ পর্যন্ত যারা আছেন, তাদেরকে আমরা লাইফলাইন গ্রাহকই বলি। যারা একটা ফ্যান দুটো লাইট বা একটা ফ্যান দুটো ফ্যান, দুটো লাইট এরকম ব্যবহার করেন। খুবই নমিনাল তাদের বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়নি। এই গ্রাহকের সংখ্যা হচ্ছে ৬৫ শতাংশ। এটা মাথায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বাজেটের পর এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। কিছুদিন পর বাজেট ঘোষণা। এ সময়ে জ্বালানি তেলের দাম ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন তুললে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এটা কোনো না কোনো একটা জায়গায় করতে হবে। আপনি যে কথাটা বলেছেন, বাজেট আসলেই বা বাজেট হয়ে গেলেই মূল্য বেড়ে যায়। আচ্ছা, একটা কথা একটু জিজ্ঞেস করি, আপনারা অনেকেই যারা বাজারে যান নিশ্চয়ই, আমিও বাজারে যাই। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বিশেষ করে কাঁচাবাজার, সবজির মূল্য আমি দেখছি বেশ তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে অনেক সময়ের তুলনায়। আমি এ কথাটা বলতে চাই যে, প্রবণতা আছে, এই প্রবণতা রিভার্সালও শুরু হয়েছে। এখন ভর্তুকি সংকটটা আপনি খুব ভালোভাবে নিশ্চয়ই জানেন।

তিনি বলেন, আমরা যখন ভর্তুকিতে এত বেশি খরচ করে ফেলি, সরকারের কিন্তু আরো অনেক উন্নয়ন প্রকল্প আছে এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রকল্প আছে। আমরা স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বড় ব্যয় করতে চাই, শিক্ষায় চাই এবং সোশ্যাল সেফটিতে- আপনারা ফার্মার্স কার্ডের কথা জানেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা জানেন। তাই ওগুলোর ব্যয় সংস্থান তো আসলে আমাদেরকে করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমি এটা আপনার সঙ্গে যোগ করি, যদি কিছু মূল্য বাড়েও- এটা উচিত হবে না, সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। কিন্তু একইসঙ্গে আমি এই কথাটা বলতে চাই, সেটা হচ্ছে যদি কারো ওপরে চাপ পড়ে, ওই ভালনারেবল গ্রুপটাকে কিন্তু আমরা রক্ষা করছি। আমরা বিদ্যুতের দাম তাদের জন্য বাড়াইনি, আমরা তাদের জন্য জ্বালানির দাম বাড়াইনি এবং তারা আবার সরকারের কাছ থেকে অনেকেই ভাতা পেতে শুরু করবেন। তিনি বলেন, এই বাজেটে একটা বড় পার্সেন্টেজের মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে যাবেন। সুতরাং তাদের ওই চাপ- একইসঙ্গে অন্য যেসব সেফটি আছে আমাদের, টিসিবির যেসব প্রকল্প ছিল বা অন্য যেসব সেফটি নেটের প্রকল্প ছিল সেগুলো বলবৎ থাকছে। সুতরাং এইটা আশা করি খুব বড় ইমপ্যাক্ট ফেলবে না।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়