প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ১৮ আগস্ট, ২০২২

বিষাক্ত বাতাসের তালিকায় বিশ্বে পঞ্চম ঢাকা

বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত বাতাসের শীর্ষ পাঁচ শহরের তালিকায় উঠে এসেছে ঢাকার নাম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুটি সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন বুধবার (১৭ আগস্ট) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।

‘শহরগুলোতে বায়ুর মান এবং স্বাস্থ্য’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বায়ুতে প্রতি ঘনমিটারে পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএমণ্ড২ দশমিক ৫) বা বস্তুকণা ২ দশমিক ৫-এর বার্ষিক গড় ৭১ দশমিক ৪ মাইক্রোগ্রাম এবং এনও২-এর বার্ষিক গড় প্রতি ঘনমিটারে ২৩ দশমিক ৬ মাইক্রোগ্রাম।

বস্তুকণা পিএমণ্ড২ দশমিক ৫ হলো বাতাসে থাকা সব ধরনের কঠিন এবং তরল কণার সমষ্টি, যার বেশির ভাগই বিপজ্জনক। মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন প্রাণঘাতী ক্যানসার এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যা তৈরি করে পিএমণ্ড২ দশমিক ৫। এ ছাড়া বায়ু দূষণকারী এনও২ প্রধানত পুরোনো যানবাহন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প স্থাপনা, আবাসিক এলাকায় রান্না, দাবদাহ এবং জ্বালানি-পোড়ানোর কারণে তৈরি হয়।

গত বছর ডব্লিউএইচও তার বায়ুমান নির্দেশক গাইডলাইন পরিবর্তনের পর জানায়, পিএম২ দশমিক ৫ নামে পরিচিত ছোট এবং বিপজ্জনক বায়ুকণার গড় বার্ষিক ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয়। তবে এর চেয়েও কম ঘনত্ব উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

নতুন এই প্রতিবেদনে বিশ্বের ৭ হাজারের বেশি শহরের বায়ুদূষণ এবং স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম কিছু শহর এবং নগরাঞ্চলে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

শহরগুলোর ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের বায়ু মানের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন। বায়ুদূষণকারী প্রধান দুই উপাদান পিএম২ দশমিক ৫ ও এনও২ ভিন্ন ভিন্নভাবে শহরগুলোতে দূষণ সৃষ্টি করেছে।

সংস্থা দুটি বলেছে, বিশ্বে শীর্ষ দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। শহরটিতে বায়ুকণা পিএম২ দশমিক ৫-এর গড় বার্ষিক ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ১১০ মাইক্রোগ্রাম। এরপরই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দেশটির আরেক শহর কলকাতা। এ শহরে বায়ুকণা পিএম২ দশমিক ৫-এর গড় বার্ষিক ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৮৪ মাইক্রোগ্রাম।

এ ছাড়া তৃতীয় স্থানে থাকা নাইজেরিয়ার কানো শহরের ক্ষেত্রে তা ৮৩ দশমিক ৬ মাইক্রোগ্রাম। চতুর্থ স্থানে থাকা পেরুর রাজধানী লিমার বায়ুকণা পিএম২ দশমিক ৫-এর গড় বার্ষিক ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৭৩ দশমিক ২ এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ৭১ দশমিক ৪ মাইক্রোগ্রাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিম্ন এবং মধ্যমণ্ডআয়ের বিভিন্ন দেশের শহরগুলোর বায়ুতে বস্তুকণা ২ দশমিক ৫-এর উপস্থিতি বেশি। অন্যদিকে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোর পাশাপাশি নিম্ন এবং মধ্যমণ্ডআয়ের দেশের শহরেও এনও২-এর উপস্থিতিও বেশি রয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০১৯ সালে বিশ্বের ৭ হাজারের বেশি শহরের মধ্যে ৮৬ শতাংশ শহরের প্রতি ঘনমিটারে বাতাসে প্রাণঘাতী পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএমণ্ড২ দশমিক ৫-এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া বার্ষিক ১০ মাইক্রোগ্রাম সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ছিল, যা বিশ্বের ২৬০ কোটি মানুষকে প্রভাবিত করেছে।

জীবাশ্ম জ্বালানি দহন, বায়োমাস পোড়ানো, চলাচলের অনুপযোগী যানবাহন থেকে নির্গমন, ইটভাটা এবং ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজের ফলে বাংলাদেশের শহরগুলোর দূষিত বায়ুর মান প্রায়ই বৈশ্বিক গণমাধ্যমের শিরোনামে আসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শুধু বায়ুদূষণের কারণে প্রত্যেক বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close